বেশ কিছু সাইবার হামলার শিকার হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি দপ্তর ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। এসব ঘটনায় রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন অভিযোগ করা হলেও দেশটি তা অস্বীকার করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ সাইবার হামলার কথা নিশ্চিত করেছে। তারা এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ওপর চালানো ‘সবচেয়ে বাজে’ আক্রমণ বলে অভিহিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ দেশটির পরমাণু অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণে জড়িত। এসব অস্ত্রের কোনো ক্ষতি হয়নি বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফটও জানিয়েছে, তারা তাদের ‘অভ্যন্তরীণ রক্ষাব্যবস্থায়’ সন্দেহজনক সফটওয়্যারের উপস্থিতি পেয়েছে।

সাইবার হামলা চালানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কেও লক্ষ্য করে। আরো আগে থেকে এসব সাইবার আক্রমণ চালানো হলেও কর্মকর্তারা গত রোববার (১৩ ডিসেম্বর) বিষয়টি ভালোভাবে আঁচ করতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রে চালানো সাইবার হামলা নিয়ে এখনো মুখ খোলেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, অনলাইন নিরাপত্তা তার প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ হিসেবে থাকবে। সাইবার হামলা রুখতে প্রতিকূলতা দূর করার অঙ্গীকারও করেন তিনি।

দ্য সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্টাকচার এজেন্সি (সিআইএসএ) বৃহস্পতিবার এই ঘটনাকে ‘জটিল ও তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছে। সংস্থাটি বলেছে, ‘জটিল অবকাঠামোগত’ ক্ষতি হয়েছে। সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে।

সিআইএসএ জানায় চলতি বছরের মার্চেও ঘটে এসব হ্যাকিং এর ঘটনা। তবে কী ধরনের তথ্য চুরি করা হয়েছে তা স্পষ্ট করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র শায়লিন হ্যানি বলেছেন, ম্যালওয়ারের কারণে শুধু বাণিজ্য সংক্রান্ত নেটওয়ার্কগুলো বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

তবে হ্যাকিং এর পুরো চিত্রটি এখনো বুঝা যাচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আরো বলেছেন, ‘এখনো অনেক বিষয় আছে আমরা জানি না। কিন্তু যা আমরা জানি তাই উদ্বেগের বিষয়।’

সিআইএসএ আরো জানিয়েছে, হ্যাকাররা টেক্সাসভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সোলারউইন্ডস এর তৈরি করা নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার ব্যবহার করে হ্যাকিং চালিয়েছে। ১৮ হাজার সোলারউইন্ডস অরিয়ন গ্রাহক ম্যালওয়ারসহ সফটওয়্যার ব্যবহার করেছেন। সাধারণ নাগরিকদের সোলারউইন্ডস এর সফটওয়্যার বাতিল করে দিতে বলা হয়েছে।

মাইক্রোসফট জানিয়েছে, তাদের ৪০ এরও বেশি সেবাগ্রহীতা সাইবার হামলার লক্ষ্য হয়েছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছে সরকারি সংস্থা, থিংক-ট্যাঙ্ক, এনজিও ও আইটি প্রতিষ্ঠান। এসব ব্যবহারকারীর ৮০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের। বাকিরা কানাডা, মেক্সিকো, বেলজিয়াম, স্পেন, যুক্তরাজ্য, ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব-আমিরাতের।

হামলার পেছনে রাশিয়ার হাত রয়েছে বলে ধারণা করছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে রাশিয়া কোজি বিয়ার অথবা এপিটি২৯কে সন্দেহ করা হচ্ছে হ্যাকিং বিষয়ে। পত্রিকাটি আরো বলছে, ওবামার শাসনকালে এই হ্যাকিং গ্রুপটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও হোয়াইট হাউজের মেইল সার্ভার ব্যবহার করেছিল।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা এই ধরনের আক্রমণাত্মক সাইবার হামলার সঙ্গে জড়িত নয়।