বগুড়ার ধুনটে আওয়ামী লীগের দুইপক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে ৪ পুলিশসহ ১৬ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিসহ (এডিপি) বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ নিয়ে উপজেলা পরিষদ সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

পরে ৬ রাউন্ড ফাঁকা রাবার বুলেট ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

ধুনট উপজেলা পরিষদের এডিপির কাজে ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা, জাইকা প্রকল্পে ৫০ লাখ টাকা, রাজস্ব খাতে ৫০ লাখ টাকাসহ টিআর, কাবিখা ও কাবিটা, বয়স্কভাতা, বিধবাভাতাসহ বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। প্রতিটি প্রকল্পের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন ধুনট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সম্পাদক আব্দুল হাই খোকন।

কিন্তু সভাপতির দায়িত্বে থাকলেও আব্দুল হাই খোকন দীর্ঘদিনেও এসব প্রকল্পে স্বাক্ষর না করায় সরকারি কোটি টাকার প্রকল্প ফেরত যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রকল্প গ্রহণে ধুনট উপজেলার ১০ ইউপি চেয়ারম্যান এ বিষয়ে লিখিতভাবে জানান।

এরপরও সমাধান না হলে শনিবার সকাল ১০টায় ধুনট উপজেলা পরিষদের সমঝোতার বৈঠকে ইউএনও সঞ্জয় কুমার মহন্ত, স্থানীয় এমপির প্রতিনিধি হিসেবে তার ছেলে আসিফ ইকবাল সনিসহ অন্যরা উপস্থিত হন। কিন্তু সমঝোতার বৈঠকে অনুপস্থিত থেকে যান উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকন।

এ নিয়ে একপর্যায়ে বৈঠক হলের বাইরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সংবাদ পেয়ে ধুনট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে ৬ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।

সংঘর্ষে ধুনট থানা পুলিশের এসআই প্রদীপ কুমার, এসআই মজিবর রহমান, কনস্টেবল মোজাফফর ও সবুজ এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ভিপি শেখ মতিউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সুজাউদ্দৌলা রিপন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাকারিয়া খন্দকার, পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুজন সাহাসহ উভয়পক্ষের মোট ১৬ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতরা গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করছে।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, আগামী জুন মাসের মধ্যে সরকারি প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন না হলে ফেরত যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে একাধিকবার অবগত করা হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার সমঝোতা হয়নি। বৈঠক চলাকালে উপজেলা পরিষদের বাইরে সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

ধুনট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, সংঘর্ষে পুলিশের ৪ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে ৬ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনায় পৃথকভাবে তিনটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।