শেরপুরে স্কুল প্রতিষ্ঠা নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে সাংবাদিকের বাড়িতে হামলায় আহত এক ব্যক্তির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শনিবার রাতে মারা যান শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মেরাজ উদ্দিনের চাচা শ্রীমত আলী।

চরশেরপুর ইউনিয়নের হেরুয়া বালুরঘাট এলাকার মেরাজ উদ্দিন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি। তার ছেলে শাহরিয়ার শাকির নিউজবাংলার জেলা প্রতিনিধি। তাদের বাড়িতে শনিবার বিকালে এই হামলায় ১০ জন আহত হয়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, হামলার ঘটনায় রোববার ভোরে ৪২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন নিহত ব্যক্তির ছেলে উকিল মিয়া।

শাকির জানান, হেরুয়া বালুরঘাট এলাকায় জাতীয় সংসদের হুইপ আতিউর রহমান আতিকের নামে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন তার বাবা মেরাজ উদ্দিনসহ স্থানীয় কয়েকজন। এ নিয়ে এলাকার বালুরঘাট মডেল স্কুলের মালিক রেজাউল করিম সাদা ও স্কুলটির অন্য পরিচালকদের সঙ্গে অনেক দিন ধরেই বিরোধ চলছিল।

শাকিরের অভিযোগ, এর জের ধরে শনিবার বিকেল চারটার দিকে রেজাউল করিম, জামান মেম্বার, প্রভাষক সাইফুল ইসলাম, আক্রামুজ্জামান আঙ্গুর, মমতাজ হাজিসহ অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল ধারাল অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হঠাৎ করেই হামলা চালায়। এতে আহত হন শ্রীমত আলীসহ ১১ জন।

তাদের জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় শ্রীমত ও আল আমিন ডানো নামে আরেকজনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সেখানে নেয়ার পর চিকিৎসক শ্রীমতকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আল আমিন। অন্যরা জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মেরাজ উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার পর থেকে বালুরঘাট মডেল স্কুলের মালিক ও পরিচালকরা ক্ষিপ্ত ছিলেন। আমাদের স্কুল চালু হলে তাদের স্কুল চলবে না- এটা তাদের মনে হতো। এ জন্য তারা আমাদের স্কুল বন্ধ করার পায়তারা করছিলেন। এ কারণেই তারা আমার বাড়িতে হামলা চালায়। আমার চাচা মারা গেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, রোববার ভোরে মামলা হয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে নেয়া হচ্ছে আইনি ব্যবস্থা।