মান্দার বা পারিজাত যে নামেই গাছটিকে লোকে চিনে থাক, তার লাল ভূবন ভোলানো ফুল। যে কারোই নজর কাড়ে। কিন্তু মান্দারের একটি গাছ দেশে বিদেশে বিখ্যাত হয়ে ওঠেছে। বলা চলে এই মুহুর্তে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই মান্দার গাছটি।

হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ওয়াচ টাওয়ারের পাশে একটি মান্দার গাছ। যে গাছটির জন্য প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছুটে আসেন অনেকেই। এই গাছের দিকে লেন্স তাক করে দাঁড়িয়ে থাকেন ঘন্টার পর ঘন্টা।

সাতছড়ীয় একটি জাতিয় উদ্যান হলেও এই গাছটিই প্রকৃতি প্রেমী এবং আলোকচিত্রীদের কাছে সবচেয়ে আকাংকার এবং পরিচিত। শুধু তাই নয়, উইকিলিকসসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়াওয়ার্ড জয় করে নিয়েছে এই গাছের ছবি। বসন্তের দিনে এই গাছের সামনে দাড়ীয়ে থাকার জায়গা পাওয়া কঠিন। বাংলাদেশের আর কোথাও বা কোন বনে একটি গাছের সামনে এত ভীর বা একটি গাছের পরিচতি বিশ্বব্যপী আছে বলে জানা নেই কারো। সে হিসেবে দেশের সব চেয়ে জনপ্রিয় গাছ এই মান্দার গাছটি। দেশের নানা প্রান্ত থেকে প্রতিদিন ছুটে ছুটে আসছেন বন্যপ্রানী আলোকচিত্রীরা। তাবু রাত কাটিয়ে দিচ্ছেন এই মান্দার গাছের পাশেই।

কিন্তু এত জনপ্রিয় এই মান্দার গাছ তা নিয়ে কথা বলেন, সম্প্রতি সাতছড়ি ঘুরে যাওয়া আইইউসিএনের মুখ্য গবেষক সীমান্ত দিপু। তিনি জানান, সাতছড়ির এই মান্দার গাছে যেন পুরো একটি বনের পরিচয়! প্রকৃতিপ্রেমিক কিনবা পযটক সবাই এখন এই গাছটিকে চেনেন। বসন্তে কত মানুষ যে এর ছবি তুলতে যান তা বলে শেষ করা যাবে না। বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন আলোকচিএী বিশ্বখ্যাত এ্যাওয়াড পেয়েছেন এর ছবি তুলে। এই গাছটিকে উপভোগ করতে হলে একটি টাওযারে উঠতে হয়। ছুটির দিনগুলোতে এই টাওয়ারে জায়গা পাওয়া মুশকিল। আমাদের দেশে একটি বনের সৌন্দয্য দেখতে আর কোথাও এত মানুষের ভীড় আছে কিনা সন্দেহ!

মান্দার গাছটি শুধু মানুষের কাছেই জনপ্রিয় নয়। পশুপাখির কাছেও সমান প্রিয়। প্রায় ৪০ জাতের পাখি ঘুরে ফিরে এই গাছে দেখা যায়। বেশিরবাগই পোকাখেকো। কিছু কিছু মধু খেকো। পতঙ্গদেরও প্রিয় জায়গা এই গাছের ফুল। দেখা মিলে কাঠড়িালীসহ গিরগিটি।

এই মান্দার গাছের উপর বসা কাঠশালিকের ছবি তুলে উইকিলিকস এ্যাওয়াড জয় করেছেন বগুড়ার আলোকচিত্রী তৌহিদ পারভেজ বিপ্লব। তিনি জানান, যারা বার্ডিং (পাখির ছবি তোলা) পছন্দ করেন তাদের জন্য সাতছড়ি একটি স্বর্গ। ওয়াচ টাওয়ারের সামনে থাকা মান্দার গাছটি সারাদেশের সব বন্যপ্রানী আলোচিত্রী পর্যটকসহ দেশ বিদেশে পরিচিত। বসন্তে এই গাছের কাঠ শালিকের ছবি অনেক আন্তর্জাতিক বিখ্যাত বিখ্যাত এয়ার্ড জয় করেছে। বসন্তে এখানে এক বা একাধিকবার যেতেই হয়। আমি অন্তত ৫০ বার এখানে গিয়েছি। এই বছরও গত সপ্তাহে একবার গিয়ে এসেছি আগামী সপ্তাহে আবার যাব। তবে গত সপ্তাহে পুরোটা সময় আমরা প্রায় ১০ জন যেমন মান্দার গাছের সামনেই কাটিয়ে দিয়েছি আগামিতেও তাই হবে। আমরা পাখির ছবি তুলতে যাই। সবচেয়ে দূর পঞ্চগড় থেকেও আমাদের সাথে একজন যোগ দিয়েছিয়েল।

বসন্তে মান্দার গাছে কাঠ শালিকের ছবির চেয়ে সুন্দর ছবি আর কি হতে পারে। তবে প্রচুর ভীর থাকে ফটোগ্রাফারসহ পর্যটকদের। পছন্দমত ছবিতোলার জন্য জায়গা পাওয়াই কঠিন।