দিনরাত ডেস্ক : বর্তমান সরকারের অধীনে নিজের দায়িত্ব নেয়ার এক বছর পর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করেন সিলেট-১ আসনের এমপি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। বিগত এক বছরের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও আগামীতে সিলেট কেমন হবে, আর এজন্য যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে সেসব তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তিনি।

শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি ) বিকেল ৪ টায় সিলেট সার্কিট হাউজে ‘আগামীর সিলেট’ নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে তিনি কথা বলেন।

তিনি প্রথমেই নিজের সময়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন। পাশাপাশি আগামীতে কি কি প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে তাও তুলে ধরেন। এসব প্রকল্পের মধ্যে ‘মেগা প্রকল্প’ হিসেবে আছে, ঢাকা সিলেট মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরন। যার অর্থায়ন ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। আগামী মাস দুয়েকের মধ্যে টেন্ডারও হবে। এটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকা-সিলেট যাতায়াতে সময় কমে আসবে কয়েকগুণ। এতে সিলেটের সাথে ঢাকার যোগাযোগ সহজ হবে।

এছাড়া সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার কাজ চলমান আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওসমানী বিমানবন্দরে কাজের ভালো অগ্রগতি আছে। আশা করি আগামী জানুয়ারি মাসে সিলেট-ঢাকা সরাসরি রুট চালু করতে পারব।

স্বাস্থ্য খাতে সিলেটে গত একবছরে নানান উন্নয়ন হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, খাদিম পাড়ায় ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে আউটডোরে চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। আর হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। আশাকরি খুব শীঘ্রই হয়ে যাবে। এছাড়া প্রায় ৬৯৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে পরিচালক স্বাস্থ্য ও সিভিল সার্জন, সিলেট অফিসের নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে। আর ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতাল নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। এছাড়া গত এক বছরে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালের আউটডোর কমপ্লেক্স (৪র্থ তলা থেকে ৯ম তলা) ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ চলমান রয়েছে।

ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়া যায় না এমন অভিযোগ ছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এজন্য আমরা ক্যাজুয়ালিটি বিভাগ, নতুন পরিসরে ইমার্জেন্সি বিভাগ চালু, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ চালু করা, আরেকটি মেডিসিন ওয়ার্ড চালু, একটি অত্যাধুনিক সিটি স্ক্যান মেশিন, নবজাতকের জন্য বিশেষ পরিচর্যা কেন্দ্র, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট চালু করা হয়েছে। অন্যদিকে সিলেটে একটি নতুন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। খুব শীঘ্রই জমি অধিগ্রহণ করা হবে।

সিলেট নগরীকে আধুনিকায়ন করতে ইতিমধ্যে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইনের কাজ চলছে উল্লেখ করে মোমেন বলেন, আগামী কিছুদিনের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে পুরো নগরীর বিদ্যুৎ লাইন ভূগর্ভস্থ নেয়া হবে। আর সিলেট নগরীতে অপরাধের মাত্রা কমিয়ে আনতে পুরো নগরীকে সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। সিলেটকে ডিজিটাল সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ হয়েছে। আর নাগরিক সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩৩৩ তে কল এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট সিটি কর্পোরেশনকে এক হাজার দুইশ আটাশ কোটি টাকা বরাদ্ধ দিয়েছেন। যা সিলেট সিটির সৌন্দর্য বর্ধনে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা সিলেটকে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন কাজ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে এক সাথে ৬০ টি নতুন ভবনে নির্মাণ এবং সম্প্রসারণের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। ১২৮ টি কলেজের আড়াই কোটি থেকে আট কোটি টাকা পর্যন্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এছাড়া ‘নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প’ এর আওতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ভবন নির্মাণ, ‘নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ শীর্ষক প্রকল্প’ এর আওতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ভবনের সম্প্রসারণ, ‘নির্বাচিত মাদ্রাসা সমূহের উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প’ বাস্তবায়ন, ‘নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভৌত কাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প’ এর আওতায় বিভিন্ন শিক্ষা স্কুলের উন্নয়ন কার্যক্রম অনুমোদন হয়েছে।

এছাড়া সামাজিক সুরক্ষা খাতে নিজের স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে দরিদ্র ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। আর পা চালিত ৫ টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে শাহ পরাণ দরগাহকে দৃষ্টিনন্দন করার জন্য বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করার জন্য দুইজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়াও সুরমা নদী উদ্ধার, সিলেটের ট্রাক, বাস, টার্মিনালগুলোকে নতুনভাবে আধুনিকায়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে সিলেট হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে উন্নত শহর।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, কেন্দ্রীয় সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার তাহমিদুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক এম. কাজী এমদাদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন প্রমুখ।