সিলেটে সৎ মা ও দুই ভাই বোনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় কিশোর আহবাব হোসেন আবাদ ও তার মা সুলতানা বেগম রুমিকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সুলতানা বেগম রুমির প্ররোচনায় তার ছেলে আহবাব হোসেন আবাদ পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজের সৎ মা ও ভাইবোনকে ছুরি ও খুন্তি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

শুক্রবার রাতে নিহত রুবিয়া বেগমের ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

শাহপরান থানার ওসি সৈয়দ আনিসুর রহমান জানান, মামলায় নিহতের সৎ ছেলে আহবাব হোসেন আবাদ ও হত্যার প্ররোচনার অভিযোগে তার মা সুলতানা বেগম রুমিকে আসামি করা হয়েছে।

ওসি বলেন, আটক আহবাবকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে তার মা সুলতামা বেগমকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সিলেট নগরের উপকণ্ঠের বিআইডিসি এলাকায় ছেলেমেয়েসহ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রুবিয়া বেগম (২৮) ও তার মেয়ে মাহা (৮) ও ছেলে তাহসান (৫) কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আহবাব হোসেন আবাদকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। সৎ মায়ের সাথে দ্বন্দের জেরেই সৎ ছেলে তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা করে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক কিশোর আবাদ হোসেন (১৭) নিজের সৎ মা ও ভাইবোনকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

শাহপরান থানা সূত্রে জানা যায়, সিলেটের বিয়ানীবাজারের বাসিন্দা আবদাল হোসেনের (৪২) শাহপরান এলাকায় মুদি দোকান রয়েছে। ব্যবসার স্বার্থে তিনি বিআইডিসি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। আবদাল হোসেন দুটি বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রী তার দুই ছেলে মেয়েসহ বিয়ানীবাজারে গ্রামের বাড়িতে থাকেন। আর ২য় স্ত্রী ও তার দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে বিআইডিসি এলাকার বাসায় থাকেন আবদাল। মাস ছয়েক পূর্বে নিজের প্রথম স্ত্রীর পক্ষের বড় ছেলে আবাদ হোসেনকে শহরের বাসায় নিয়ে আসেন আবদাল। এরপর থেকেই সৎমায়ের সাথে তার দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।