গ্রীস্মকালীন ফল তরমুজ নিয়ে কদিন ধরেই চলছে তুলকালাম। চাষীদের কাছ থেকে কম দামে তরমুজ কিনে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এমনকি কেজি দরেও তরমুজ বিক্রি করছে একশ্রেণীর ব্যবসায়ীরা।

সিলেটে সুপার শপ ‘স্বপ্ন’ও এভাবে কেজি দরে বিক্রি করছিলো তরমুজ। তবে এতে বাধ সাধে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বুধবার (২৮ এপ্রিাল) স্বপ্ন’র উপশহর শাখায় অভিযান চালিয়ে কেজি দরে ও অতিরিক্ত মূল্যে তরমুজ বিক্রির প্রমাণ পান ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তারা। পরে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক শ্যামল পুরকায়স্থের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন অধিপ্তরের সহকারি পরিচালক আমিরুল ইসলাম মাসুদ। এতে সহায়তা করে র‍্যাব-৯।

শ্যামল পুরকায়স্থ বলেন, স্বপ্নতে প্রতিকেজি তরমুজ ৬৮ টাকা ধরে বিক্রি করা হচ্ছিল। এ হিসেবে একটি বড় তরমুজের মূল্য পরে ৬০০ টাকা। অথচ তাদের ক্রয় রশিদ যাচাই করে দেখা যায়, আড়ৎ থেকে তারা পিছ হিসেবে তরমুজ কিনে এনেছেন। এতে বড় সাইজের একটি তরমুজের দাম পড়েছে ৩শ’ টাকা। পিছ হিসেবে কিনে কেজি দরে ও দিগুণ লাভে বিক্রির দায়ে স্বপ্নকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরণের কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

স্বপ্ন ছাড়াও নগরের কদমতলী ফলের আড়তে অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ফলের আড়তে মূল্য তালিকা না থাকা, অতিরিক্ত দামে তরমুজ বিক্রি, তরমুজের ক্রয় মূল্য ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকা এবং ক্রয় রশিদ সরবরাহ করতে না পারার অপরাধে ৪টি দোকানে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এরমধ্যে বীণা ফলের আড়ৎকে ২ হাজার, মোজাম্মেল ফলের আড়ৎকে ৪ হাজার, সুলতান এন্টারপ্রাইজকে ৪ হাজার এবং মের্সাস মা ফল ভান্ডারকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সিলেট কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক শ্যামল পুরকায়স্থ বলেন, বাজার ও পণ্যের মান তদারকিতে আমাদের অভিযান অব্যাহতহ থাকবে। রমজান মাসে এ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।