হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ডাকা হরতাল রোববার (২৮ মার্চ) সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়েছে। চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনে রোববার ফজরের নামাজের পর থেকেই সিলেটে রাস্তায় নেমেছেন হেফাজতের নেতাকর্মীরা। ভোর থেকে তারা মহানগরীর বিভিন্ন রাস্তায় পিকেটিং শুরু করেছেন, চলতে দিচ্ছেন না কোনো ধরনের যানবাহন।

এছাড়াও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোতে ইট বিছিয়ে এবং কাগজ জড়ো করে তাতে আগুন ধরিয়ে পিকেটিং করছেন।

এদিকে, হরতালের কারণ সিলেট থেকে ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার কোনো বাস। সিলেটের আঞ্চলিক সড়কগুলোতেও বাস এবং যাত্রীবাহী গাড়িসহ চলাচল করছে না কোনো ধরনের যানবাহন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে শুক্রবার ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সংঘর্ষ এবং চারজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এর প্রতিবাদে রোববার (২৮ মার্চ) সারাদেশে হরতাল ঢেকেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

এদিকে, হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালকে কেন্দ্র করে সকল ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ঠেকাতে সিলেটে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী। রোবববার ভোরে হেফাজত নেতাকর্মীরা রাস্তায় নামার সঙ্গে পুলিশও অবস্থান নিয়েছে নগরীর বিভিন্ন স্থানে। হরতালের সমর্থনে হেফাজতের মিছিল চলাকালে নগরীর কোর্ট পয়েন্টে পুলিশ সদস্যদের সতর্কভাবে দাঁড়িয়ে দেখা যায়। তবে হেফাজতের কর্মসূচি পালনে কোনো বাধা দিচ্ছে না পুলিশ।

অপরদিকে, পুলিশের পাশপাশি রোববার সারাদিন সিলেটে মাঠে থাকবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এছাড়া নগরীতে ৬জন নির্বাহী মাজিস্ট্রেটও মাঠে রয়েছেন।

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) পাশপাশি আমর্ড পুলিশ এবং র‍্যাবও রোববার মাঠে থাকছে।

এ রিপোর্ট লেখা (সকাল সাড়ে ৮টা) পর্যন্ত নগরীর কোর্ট পয়েন্টে, তালতলা, জিতু মিয়ার পয়েন্ট, মিরাবাজার, শিবগঞ্জ, উপশহর, মদিনা মার্কেট, মেজরটিলা, টিলাগড়সহ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এবং মোড়গুলোতে অবস্থান নিয়ে রাস্তায় বসে আছেন হেফাজত নেতাকর্মীরা। থেমে থেমে স্লোগান দিচ্ছেন তারা। এছাড়াও ১৫-২০টি মোটরসাইকেল নিয়ে শহরময় ঘুরে ঘুরে পিকেটিং করছেন হেফাজতের প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী।