সিলেট বিভাগে দুই হাজার ৪৪ জন নদী দখলদার রয়েছেন। আর সবচেয়ে বেশি দখলদার চট্টগ্রাম বিভাগে। এখানে ১৮ হাজার ৪১১ জন। অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে খুলনা বিভাগে সাত হাজার ২১৮ জন, ঢাকা বিভাগে সাত হাজার ৫৮২ জন, বরিশাল বিভাগে পাঁচ হাজার ৬১১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে তিন হাজার ৪৯৫ জন, রাজশাহী বিভাগে দুই হাজার ৭৮৩ জন এবং রংপুর বিভাগে দুই হাজার ৪১৪ জন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদের প্রশ্ন-উত্তরে সরকারি দলের এম. আবদুল লতিফের প্রশ্নের জববে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্ন-উত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সব জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে নদ-নদীর অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এই তালিকা জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের ওয়েবসাইট ও সংশ্লিষ্ট জেলা তথ্য বাতায়নে আপলোড করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এতে সারাদেশে ৪৯ হাজার ১৬২ জন অবৈধ দখলদারের বিবরণ লিপিবদ্ধ আছে। নদ-নদীর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করার কার্যক্রম চলমান প্রক্রিয়া। ইতোমধ্যে সব জেলা প্রশাসককে তালিকা অনুসারে ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে সারাদেশে নদ-নদীতে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করার জন্য অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ঝালকাঠিসহ বিভিন্ন জেলায় উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর থেকে বিশেষ উচ্ছেদ অভিযানে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর সময়ে মোট ১ হাজার ২৭টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে ২১ দশমিক ৫ একর তীরভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য নদী বন্দরেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে দখলমুক্ত করার বিষয়টি অব্যাহত রাখা হবে।

প্রতিমন্ত্রীর তথ্য মতে, নদী দখলে শীর্ষ ১০ জেলার মধ্যে অন্যগুলো হচ্ছে কুষ্টিয়া (৩১৩৪ জন), বরিশাল (২২৭২ জন), ময়মনসিংহ (২১৬০ জন), ফরিদপুর (১৮৪৩ জন), বরগুনা (১৫৫৪ জন), নাটোর (১৫৪১ জন), গোপালগঞ্জ (১৩৯৯ জন)। এদিকে সব চেয়ে কম নদী দখলদার রয়েছেন লালমনিরহাট জেলায় (১৩ জন)।