সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের মৃত্যুর পর থেকেই জল্পনা কল্পনা চলছে কে হচ্ছেন এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী। আওয়ামী লীগের অন্তত ডজনখানেক নেতা এই আসনে দলীয় মনোনয়ন চাচ্ছেন। কয়েসের স্ত্রী ফারজানা সামাদ চৌধুরীও দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে আলোচনা চলছিলো।

তবে এতোদিন নীরব ছিলেন প্রয়াত এই সাংসদের স্ত্রী। অবশেষে নিরবতা ভেঙে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন ফারজানা সামাদ চৌধুরী।

স্বামীর অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে সর্বস্তরের জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে ফারজানা সামাদ চৌধুরী বলেন, পরম করুণাময়ের ইচ্ছায় সিলেট-৩ আসনের গণমানুষের নেতা, এই জনপদের পর পর ৩ বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী আকষ্মিকভাবে আমাদেরকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে পরপারে পাড়ি দিয়েছেন। আমার জীবনের সবচেয়ে বেদনাবিধুর এই সময়টিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর নেতৃত্বাধীন সদাশয় সরকার এবং সিলেট-৩ আসনের আপনার জনতাসহ সর্বস্তরের সিলেটবাসী আমি ও আমার পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা ও সহযোগিতা প্রদান করেছেন। শোকে স্তব্ধ আমি ও আমার সন্তানসহ প্রয়াত এমপি মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরীর পুরো পরিবার ও স্বজনরা এজন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞ ও চিরঋণী। সবার কাছে, আমি ব্যক্তিগতভাবে দোয়া প্রার্থী আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেন আমাদেরকে এই শোক কাটিয়ে উঠার শক্তি দান করেন।

বিবৃতিতে ফারজানা চৌধুরী বলেন, বিগত প্রায় ৪ দশক সিলেট-৩ নির্বাচনী এলাকা তথা দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জের আপামর জনতার সুখ-দুখের সাথী ছিলেন সদ্য প্রয়াত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী। দীর্ঘ এই সময়ের পরিক্রমায় এই জনপদের মাটি ও মানুষের শুধু নেতা হিসেবে নয়, একজন সুহৃদ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বদান্যতায় ও উদার সহযোগিতায় মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী তার নির্বাচনী এলাকায় বিপুল উন্নয়ন কর্মকান্ড শুরু করেছিলেন, যার অনেকগুলো ইতোমধ্যে সফল ও সুচারুরূপে সম্পন্ন হয়েছে এবং অনেকগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলাবাসীর প্রাণের মানুষ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর অবর্তমানে তার স্বপ্নের উন্নয়ন কর্মকান্ড যেন গতিরুদ্ধ না হয়, সেটি নিশ্চিত করা সময়ের দাবী। মাহমুদ-উস-সামাদের আকষ্মিক মৃত্যুতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা অপূরণীয়। এরপরও জীবন থেমে থাকেনা। সময়ের প্রয়োজনে দায়িত্ব গ্রহণে এগিয়ে যাওয়াই চিরন্তন সত্য। এই সত্যের প্রেক্ষিতে সময়ের প্রয়োজনে আমি ব্যক্তিগতভাবে দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জবাসীর পাশে থাকতে চাই।

ফারজানা চৌধুরী বলেন, মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরীর জীবদ্দশায় তার জীবনসঙ্গীনী হিসেবে তার সকল কর্মকাণ্ডে অতীতে যেমন পাশে ছিলাম, আগামী দিনেও একই ভাবে দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জবাসীর কাছে থাকতে আমি আগ্রহী। জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ ও আশীর্বাদ পেলে মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী এমপির অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে আমি আগামীদিনে সিলেট-৩ নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। আমার আগামী দিনের পথচলায় সিলেট-৩ নির্বাচনী এলাকার সর্বস্তরের মানুষের দোয়া, সমর্থন ও সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করছি।