স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে স্ত্রীদের দায়ের করা ৬৫টি মামলার মধ্যে ৫৪টি নিষ্পত্তি হয়েছে একদিনে। তবে স্বামীদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি আদালত। স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করার শর্তে ৫৪ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

তবে স্ত্রীদের সাথে সংসার করতে না চাওয়ায় একই অভিযোগে আরও ১১টি মামলায় ১১ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তাদের প্রত্যেককে দেড় বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ রায় দেন সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেন।

এ রায়ের ফলে ৫৪টি পরিবারে আবার আনন্দের জোয়ার বইছে। আদালত জানিয়েছে সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

আদালত জানায়, প্রথমবারের মতো স্বামীদের ভালো হওয়ার জন্য সুযোগ দেয়া হয়েছে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে আপস মিমাংসা করে আজ সোমবার দুপুরে ফুল ও চকলেট দিয়ে স্বামী স্ত্রীদের এক সাথে সংসার করার নির্দেশনা প্রদান করেন বিচারক।

অন্যদিকে আরও ১১টি পরিবার একিভূত করতে সক্ষম না হওয়ায় ও নির্যাতিত স্ত্রী ও তাদের সাক্ষীরা স্বামীর বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দেওয়া এবং তা প্রমানিত হওয়ায় ১১ জনকে দেড় বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন, নূরুল ইসলাম, মো.শামীম, নজরুল ইসলাম, শাহেদ চৌধুরী, রকিবুল ইসলাম, ইমরান আহমদ, আল-আমিন, মো.সোহেল মিয়া, আল-আমিন, মইন উদ্দিন, রিপন মিয়া।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি নান্টু রায় বলেন, এটি একটি যুগান্তকারি রায়। এর আগেও ৪৭ টি মামলার একইভাবে দেন আদালত। এই রকম রায়ে আদালতে মামলা জট কমবে এবং মানুষ আদালতে ঘন ঘন হাজিরা দেয়া থেকে রক্ষা পাবে। এই রকম ভাবে দ্রুত মামলার রায় হলে বিচার প্রার্থী ও আইনজীবীদের জন্য ভাল দিক।