সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক সরকারের দেয়া প্রাথমিকের বই দুই হাজার ৩৬০ টাকায় বিক্রি করেছেন। সেই সঙ্গে স্কুলের কার্টন ও ভাঙারি জিনিসপত্র বিক্রি করেছেন ৮১২ টাকায়। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দাবি, পুরোনো হওয়ায় সেগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি।

তবে শিক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, পুরোনো হলেও সরকারের দেয়া বই বিক্রির নিয়ম নেই। এ কাজ করায় ওই শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে, ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বেরীকান্দি বড়খলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারের দেয়া পাঠ্যবই কেজি দরে বিক্রি করেছেন প্রধান শিক্ষক আলী নূর খান।

তার দাবি, বিক্রি করা বইগুলো চলতি বছরের নয়, ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালের । আর এই বই ও অন্যান্য জিনিস বিক্রি করে তিন হাজার ১৭২ টাকা পেয়েছেন তিনি, যা জমা হবে সরকারি কোষাগারে।

গত মঙ্গলবার রাতে এক ভ্যানচালকের কাছে ২৯৫ কেজি বই ৮ টাকা কেজি দরে ও ৩২৫ কেজি ওজনের কার্টন ও ভাঙারি জিনিসপত্র আড়াই টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন বেরীকান্দি বড়খলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী নূর খান। দুটি ভ্যানে করে ওই বইগুলো নিয়ে যাওয়ার সময় চালকদের আটক করেন স্থানীয়রা। পরে বইসহ দুই জনকে পুলিশের হাতে তুলে দেন তারা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেরীকান্দি বড়খলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী নূর খানের কাছ থেকে বই কেনার বিষয়টি স্বীকার করেন ভ্যানচালক।

এ ঘটনায় ধর্মপাশা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মর্কতা মানবেন্দ্র দাস বলেন, ‘আমরা প্রধান শিক্ষককে শোকজ করেছি। যে সকল বই জব্দ করা হয়েছে সেগুলো পুরোনো বই। সেগুলো তিনি বিক্রি করতে পারেন না। এগুলো উপজেলা অফিসে জমা দিতে হয়। এ ছাড়া উনি আমাদের জানাননি উনার কাছে পুরোনো বই আছে। সবকিছু একটা নিয়মের মধ্যে করা হয়। তিনি সেই নিয়ম না মেনেই বই বিক্রি করেছেন।’

ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদ চৌধুরী জানান, সরকারি বই বিক্রি হচ্ছে এমন খবরে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই ভ্যানচালককে আটক করেছে।

‘ভ্যানচালকরা আমাদের জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে বইগুলো কিনেছেন। বই কেনার রশিদও দেখান তিনি। এখন বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসের।’

ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’