দিনরাত প্রতিবেদক : ৮ মাস পর শুন্য হাতে দেশে ফিরেছেন হবিগঞ্জের মিরপুরের বাসিন্দা রুবেনা আক্তার (২৭) (ছদ্মনাম)। আট মাস পূর্বে নারী গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি গিয়েছিলেন তিনি। তার উপর নির্যাতনের মাত্রা বেশি হয়েছিল। তাই তিনি বিমানবন্দরে দাঁড়াতেই পারছিলেন না। তিনি বলেন, ‘মালিক ভালা না, খালি মারে আর খারাপ খারাপ কথা কয়। তাদের কথা না শুনলে অনেক মারে।’

শুধু তিনি নন, নতুন বছরের শুরুতেও সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশিদের ফেরা অব্যাহত রয়েছে। রোববার (৫ জানুয়ারি) রাতে সৌদি থেকে ফিরেছেন আরও ১৩৭ বাংলাদেশি। এর মধ্যে সিলেটের আছেন ৬ পুরুষ ও ২ নারী কর্মী রয়েছেন। রাত ১১ টা ২০ মিনিটে ও রাত দেড়টায় সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি ৮০৪ ও এসভি ৮০২ দুটি বিমানযোগে দেশে ফিরেন ১৩৭ জন।

এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে ৪৫৪ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে সৌদি আরব থেকে ২৪ হাজার ২৮১ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানান ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান। বরাবরের মতো ফেরত আসাদের মাঝে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম থেকে খাবার, পানিসহ নিরাপদে বাড়ী পৌঁছানোর জন্য জরুরী সহায়তা প্রদান করা হয়।

এ ব্যাপারে ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, গতবছর ২০১৯ সালে সৌদি আরব থেকে ২৪ হাজার ২৮১ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। নতুন বছরের শুরুর পাঁচ দিনে ফিরলেন ৪৫৪ জন। এইভাবে ব্যর্থ হয়ে যারা ফিরছেন তাদের পাশে সবার দাঁড়ানো উচিত। পাশাপাশি এভাবে যেন কাউকে প্রতারিত না হতে হয়, যে কাজে গিয়েছেন সেই কাজই যেন পান এবং খরচের টাকাটা তুলে ভাগ্য ফেরাতে পারেন সেটা নিশ্চিত তরতে হবে রাষ্ট্র ও দূতাবাসকে। এক্ষেত্রে রিক্রুটিং এজেন্সিকেই সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। আর সরকারের নেয়া সাম্প্রতিক ১২ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে নারী কর্মীদের নিপীড়ন কমে আসবে বলে আমরা মনে করি।