লন্ডন প্রবাসি আব্দুল সাজাদ। ২০১০ মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় কৃষক কন্যা নাইমা জান্নাতের সাথে। এর দুই বছর পর দেশে এসে দশ লক্ষ টাকা দেনমোহরে পারিবারিক ভাবে বিয়ে করেন তাকে। বিয়ের ১ বছর পর স্ত্রীকে লন্ডনে নিজের কাছে নেন তিনি। প্রায় ২ বছর খুব সুখে শান্তিতেই কাটছিল তাদের সংসার। কিন্তু কে জানত এ ভালোবাসার মানুষটিই সাজাদের কাল হয়ে দাড়াবে এক সময়।

জানা যায়, ২০১২ সালে পূর্ব বড় ভাকৈর ইউনিয়নের বাগাউরা গ্রামের মৃত আব্দুল মন্নানের ছেলে আব্দুল সাজাদের বিয়ে করেন ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের দিঘিরপাড় গ্রামের দরিদ্র কৃষক বদরউদ্দিনের মেয়ে নাঈমা জান্নাতের সাথে। বিয়ের পর নাঈমাকে লন্ডন নেয়াসহ তার পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে সুযোগ-সুবিধা দেন তিনি। নাঈমার ব্যাংক একাউন্টেও বিভিন্ন সময় টাকা পয়সা জমা রাখতেন সাজাদ।

লন্ডনে নেয়ার পর লেখা পড়াসহ সব ধরনের সুযোগ দিয়ে কলেজে আসা জাওয়ার জন্য নিজস্ব গাড়ি ও ড্রাইভিং লাইসেন্সও করে তাকে।

চাকরির কারণে সব সময় বাসায় থাকতে না পারায় নাঈমা জনৈক এক যুবকের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলা শুরু করেন এবং তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন। এক পর্যায়ে ওই যুবকের সাথে প্রেমের সম্পর্কের কথা জানতে পারেন সাজাদ। একটা সময় স্বামির কথার অবাধ্য হয়ে নিজের ইচ্ছে মতোই চলাফেরা শুরু করেন তিন।

এক পর্যায়ে সাজাদ নিজে ও তার পরিবারের লোকজনকে সাথে নিয়ে স্ত্রী নাঈমাকে ওই যুবকের সাথে কথা বলতে নিষেধ করেন। কিন্তু কে শুনে কার কথা। নিয়মিতই তিনি যোগাযোগ রাখতেন ওই যুবকের সাথে।

এক পর্যায়ে ২০১৮ সালে জান্নাত তার স্বামি সাজাদের বিরুদ্ধে নারি নির্যাতনের মামলা করেন। একাধারে ১১ টি মামলা দেয়ার পর ২০১৯ সালে লন্ডনের আদালতের মাধ্যমে নাঈমা জান্নাতের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় সাজাদের। এর পর চলতি বছরে সবগুলো মামলারই খালাস পান তিনি।