দিনরাত প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ : মুক্তিযুদ্ধ করে নানা কারণে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি মেলেনি হবিঞ্জের এমন ৩৭ জনকে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে সরকার।

হবিগঞ্জের ৬টি উপজেলার এই ৩৭ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে গেজেটভুক্ত করার সুপারিশ করেছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)। খুব শিগগির এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) হবিগঞ্জের যেসব মুক্তিযোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করতে সুপারিশ করেছে, তাঁরা হলেন-

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার হাজী মো. আব্দুল মজিদ ও মৃত আব্দুস ছামাদ খান।

নবীগঞ্জ উপজেলার নরেন্দ্র কুমার দাশ, কালিপদ মহালদার, মো. সঞ্জব আলী, সৈয়দ আব্দুল মতিন, ডা. যোগেন্দ্র কিশোর বিশ্বাস, শাহ আবদুল গনি, মৃত আব্দুল আউয়াল চৌধুরী, মো. ইজাজ মিয়া, মরহুম দেওয়ান গোলাম ছরওয়ার হাদী গাজী, সত্য রঞ্জন দাশ, অহিদুর রহমান চৌধুরী, মৃত মাখন চন্দ্র দাশ।

মাধবপুর উপজেলার মো. জসিম উদ্দিন, মরহুম গোলাপ খাঁন, ডা. সুখেন্দ্র দেবনাথ, আফিজ উদ্দিন, মরহুম মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী, আবু সিদ্দিক মোহাম্মদ কবির, শহীদ নুর মিয়া ভূইয়া, মো. খুর্শেদ আলী, মৃত মোমরাজ মিয়া, দিলীপ কুমার পাল, শহীদ মকবুল আলী, শহীদ সিরাজ মিয়া, শহীদ মো. জারু মিয়া ও মরহুম খুর্শেদ আলম চৌধুরী।

চুনারুঘাট উপজেলার মো. বশির মিয়া।

বাহুবল উপজেলার আ. খালেক ও শাহ হারুন মিয়া।

আজমিরীগঞ্জ উপজেলার হরে কৃষ্ণ দাস, রঙ্গলাল দাস, পিতাম্বর দাস ও রাকেশ চন্দ্র সরকার।

লাখাইয়ের মো. আহাদ হোসেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, কিন্তু যাঁদের নাম গেজেটভুক্ত হয়নি, সনদ পাননি এবং যাঁরা কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাননি, তাঁদেরকে গেজেটভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়। ২০১৪ সালের অক্টোবরে শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধাদের আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম। সারাদেশ থেকে অনলাইনে এক লাখ ২৩ হাজার ১৫৪ জন এবং সরাসরি ১০ হাজার ৯শ’ জন আবেদন করেন। পরে ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে দেশের প্রত্যেক উপজেলা, জেলা ও মহানগরে কমিটি গঠন করে শুরু হয় যাচাই-বাছাই। উপজেলা পর্যায় থেকে জেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই শেষে সিলেট বিভাগে ১৮০ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তির সুপারিশ করেছে জামুকা। অবশ্য শুধু সিলেট বিভাগই নয়, দেশের প্রতিটি বিভাগ মিলিয়ে এক হাজার ৩৭৯ জন মুক্তিযোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও জামুকা’র চেয়ারম্যান আ ক ম মোজাম্মেল হক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে জামুকা’র সুপারিশের ভিত্তিতে প্রথম দফায় সারাদেশ থেকে এক হাজার ৩৭৯ জন মুক্তিযোদ্ধাকে গেজেটভুক্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিগগিরই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হবে। এরপরই তা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।