হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার নাজিপুর গ্রামের আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছে সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনাল।

গত ২৮জুন ট্রাইব্যুনালের বিচারক(জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল কাশেম এই পরোয়ানা জারী করেন। গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর পর গত ৩০ জুন রাতে সিলেটের জালালাবাদ থানার একদল পুলিশ ভানুজয়ের বাসায় তল্লাশী চালালে সে পালিয়ে রক্ষা পায়। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

আদালস সূত্রে জানা যায়, কথিত সাধক অনুজয় দাশ ও ভানুজয় দাশ নাজিপুর গ্রামের আব্দুল আলীম চৌধুরী নামে এক ব্যাক্তির মেয়ের ছবি এডিট করে স্থানীয় জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কৃপেন্দু দাশের সাথে যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ও ম্যাসেঞ্জারে ছড়িয়ে দেয়। এতে করে মেয়েটির লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম দেখা দেয়।

এ ব্যাপারে শিক্ষক কৃপেন্দু দাশ আদালতে মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি প্রথমে বানিয়াচং থানা পুলিশ ও পরে সিআইডিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন। পরে সিআইডির উপ-পরিদর্শক রঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করিলে মামলাটি হবিগঞ্জ আদালত থেকে সিলেট সাইবার ট্রাইব্যুনালে বদলী করা হয়। পরে বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে পরোয়ানা দাখিল করেন।

এদিকে, কথিত সাধক অনুজয় দাশ ও ভানুজয় দাশ এর বিরুদ্ধে নাজিপুর গ্রামের আব্দুল আলীম চৌধুরীও বাদী হয়ে কথিত সাধক অনুজয় দাশ ও তার ভাই ভানুজয় দাশ এর বিরুদ্ধে আদালতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি এফআইআর এর আদেশ দেন। কিন্তু অনুজয় ও ভানুজয় বিভিন্ন কৌশলে বানিয়াচং থানা পুলিশকে ম্যানেজ করলে তখন তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলাটির চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।

এ ব্যাপারে আব্দুল আলীম চৌধুরী নারাজি প্রদান করলে মামলাটি পিবিআই পুনরায় তদন্ত রিপোর্টা দাখিল করেন। সেই মামলাটিও সিলেট সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে বদলী হয়েছে। ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে হাই কোর্টের আদেশ না মেনে পলাতক থাকায় কথিত সাধক অনুজয় কারাভোগ করার পর হাইকোর্ট থেকে জামিনে আসে। তাদের বিরুদ্ধে আলোচিত এই মামলা ও পরোয়ানার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।