কাসাভা, একটি বিচিত্র ফসল। দেখতে অনেকটা মিষ্টি আলুর মতো। কেউ কেউ পাহাড়ি আলুও বলেন। কেউবা বলেন শিমুল আলু। যার পাতা, ডালপালা, গাছের মূল, ছাল সবই কাজে লাগে। স্বল্প খরচে এ থেকে উৎপন্ন হয় দামি সব পণ্য। বিভিন্ন ওষুধের কাঁচামাল হিসেবেও ব্যবহার হয় এটি। দেশের বাজারে এর চাহিদা প্রচুর।

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়ার পরিত্যক্ত টিলায়ও এই কাসাভা চাষে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। ১২৫ একর জমিতে কাসাভা চাষ হচ্ছে কয়েক বছর ধরে। প্রতি একরে গড়ে প্রায় ছয় মেট্রিক টন উৎপন্ন হয়েছে। কৃষকদের প্রতি টনে খরচ হয় সাড়ে ৪-৫ হাজার টাকা।
মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর গ্রামের কৃষক মো. ফারুক চৌধুরী জানান, জমিটি যুগ যুগ ধরে পরিত্যক্ত ছিল। কিছুই ফলানো যাচ্ছিল না। বিশেষ করে সেচের অভাবে কোনো ফসল ফলানো সম্ভব হয়নি। তিন বছর ধরে ৩০ একর জমিতে কাসাভা চাষ করছি। গত বছর প্রায় তিন লাখ টাকা লাভ হয়েছে। এবারও এমন লাভের আশা করছি। সরকারিভাবে সহায়তা দেয়া হলে আরও বেশি লাভ করা সম্ভব।

জানা যায়, দেশে কাসাভা চাষ শুরু হয় প্রায় ৩০ বছর আগে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বেসরকারি উদ্যোগেই এটির চাষ হচ্ছে। ব্যাপক আকারে ২০১৪ সাল থেকে এখানে কাসাভার চাষ হচ্ছে। সিলেট বিভাগে ৭১৫ একর জমিতে এর আবাদ হচ্ছে। এর মধ্যে সিলেট সদরে ৭৫, কানাইঘাটে ৪০০, মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ায় ৬৫, শ্রীমঙ্গলে ৫০ এবং হবিগঞ্জে ১২৫ একর জমি রয়েছে।

কাসাভা থেকে সাড়ে চার হাজার টন স্টার্চ উৎপাদন হয়, যা থেকে গ্লুুকোজ, বিস্কুট, চকলেট, বার্লি, সুজি, রুটি, নুডলস, ক্রেকার্স, কেক, চিপস তৈরি হয়। বানানো হয় বিভিন্ন গার্মেন্টসে তৈরি কাপড়ে ব্যবহারের জন্য মাড়। বিভিন্ন রকম জীবন রক্ষাকারী ওষুধও তৈরি হয় এ থেকে। এর বর্জ্য থেকে জৈব সার উৎপন্ন হয়। গবাদিপশু খায় এর পাতা। গাছের ডালপালা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়। শিকড় ব্যবহার হয় পরবর্তী বছর চারা জন্মানোর কাজে। ফেলা হয় না কিছুই।

সিলভান এগ্রিকালচার লিমিটেড সিনিয়র ম্যানেজার মো. আসাদুজ্জামান জানান, দেশের বাজারে বছরে সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টন স্টার্চের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৫-৬ হাজার মেট্রিক টন। বাকি চাহিদা আমদানি করে মেটাতে হয়।