হবিগঞ্জ দারুচ্ছুন্নাত আলীয়া মাদ্রাসার এক ছাত্রকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নিয়ে হত্যার অভিযোগে দুই প্রেমিকাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- সদর উপজেলার ছোট বহুলা গ্রামের জিতু মিয়ার কন্যা শাবনূর আক্তার (১৮), বানিয়াচং উপজেলার শান্তিপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের কন্যা সাবিনা আক্তার (১৪) এবং শহরতলীর পোদ্দার বাড়ি এলাকার সোহেল মিয়ার পুত্র সুমন (১৮)।

খুন হওয়া মাদ্রাসা ছাত্র হবিগঞ্জ সদর উপজেলার দক্ষিণ তেঘরিয়া গ্রামের আব্দুল হেকিমের ছেলে আরিফুর রহমান খোকন (১৮)। সে হবিগঞ্জ দারুচ্ছুন্নাত আলিয়া মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণির ছাত্র।

এ তথ্য জানিয়েছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ওসি আল আমীন।

তিনি জানান, শাবনূর আক্তার ও সাবিনা আক্তারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল মাদ্রাসা ছাত্র আরিফুর রহমান খোকনের। দুইজনের সাথে গোপনে সম্পর্ক থাকলেও সম্প্রতি বিষয়টি জেনে যায় দুই কিশোরী। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে তারা আরিফুলকে খুনের পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ি গত ৮ এপ্রিল শাবনূর আক্তার বেড়ানোর কথা বলে আরিফুরকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ যায়। তারা দুইজনে সেখানে দুইদিন থাকার পর ১১ এপ্রিল অপর প্রেমিকা সাবিনা আক্তারও সেখানে যায়। এ সময় গ্রেপ্তারকৃত সুমনকেও সাথে নিয়ে যায় সাবিনা। এক পর্যায়ে ওইদিনই তিনজন মিলে আরিফুরকে হত্যা করে লাশ রুপগঞ্জ থানার বরাবু এলাকায় ফেলে রেখে হবিগঞ্জ চলে আসে।

পরদিন ১২ এপ্রিল রূপগঞ্জ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্ত শেষে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের নিকট হস্তান্তর করলে । তারা লাশটি সেখানেই দাফন করে।

এদিকে, ছেলের সন্তানে বিভিন্ন স্থানে খোজ নিতে থাকেন আরিফুরের বাবা আব্দুল হেকিম। এক পর্যায়ে ফারজানা আক্তার নামের এক কিশোরী আরিফুরের হত্যার বিষয়টি তার বাবাজে জানায়।

ঘটনার খবর পেয়ে আরিফুরের বাবা হবিগঞ্জ সদর থানায় যোগাযোগ করে। কিন্তু সেখানে তিনি কোনো প্রকার সাহায্য না পেয়ে রোববার দুপুরে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লার নিকট অভিযোগ জানান। পুলিশ সুপার বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আল আমীনকে। পরে ডিবি পুলিশ বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে রাত ৮টার দিকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার বর্ননা দিয়েছে। পরে ডিবি পুলিশ রূপগঞ্জ থানার পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। আসামিদেরকে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।