হবিগঞ্জের তিনটি পৌরসভায় ভরাডুবির পর অবশেষে জয়ের দেখা পেয়েছে ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগ। চুনারুঘাটে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা হলোও ফিরেছে স্বস্তি। তবে বরাবরের মতো তাদের দাবি, বিদ্রোহীর কারণে দুইটি পৌরসভায় হেরেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী এবং একটি পৌরসভায় প্রশাসন চক্রান্ত করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়েছে।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চুনারুঘাট পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাদেকুল ইসলাম।

তিনি জানান, আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাইফুল আলম রুবেল নৌকা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৬ হাজার ৮৩৩। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী বিএনপি প্রার্থী নাজিম উদ্দিন শামছু পেয়েছেন ৩ হাজার ৪৪৫ ভোট। ফলে ৩ হাজার ৩৮৮ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাইফুল আলম রুবেল।

২০১৫ সালের নির্বাচনে এই দুই প্রার্থীই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ সময় বিএনপির নাজিম উদ্দিন শামছুর কাছে ১৪ ভোটে হেরেছিলেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাইফুল আলম রুবেল। এবার বিএনপির সেই প্রার্থীকেই ৩ হাজার ৩৮৮ ভোটের ব্যাবধানে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হলেন তিনি। একই সাথে দীর্ঘ ১৬ বছর পর চুনারুঘাট পৌরসভাকে নিজেদের দখলে নিয়েছে আওয়ামী লীগ।

এর আগে প্রথম ধাপে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুককে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপি প্রার্থী ফরিদ আহমেদ অলি। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পান ৪ হাজার ৪১ ভোট এবং নৌকা প্রতীকে মাসুদুজ্জামান পান ৩ হাজার ১৪১ ভোট। দুজনের ভোটের ব্যবধান ছিল ৯০০।

দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত মাধবপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর চেয়ে ৮ গুণ বেশি ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান মানিক। মানিক পেয়েছিলেন ৫ হাজার ৩১ ভোট। এখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শ্রীধাম দাশগুপ্ত পান মাত্র ৬০৮ ভোট। এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী জামানত হারানোর লজ্জাও দিয়েছেন দলকে। যদিও এই দুই পৌরসভায় আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন।

তবে বিদ্রোহী না থাকার পরও নবীগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপি প্রার্থীর কাছে হেরেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর জামাতা। এই পৌরসভায় বিএনপি প্রার্থী ছাবির আহমদ চৌধুরীর পেয়েছেন ৫ হাজার ৭৪৫ এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরীর পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৮৫ ভোট। ভোটের ব্যবধান ছিল ২৬০। এখানে আওয়ামী লীগ ভোটের ফলাফল বর্জন করে হাইকোর্টে রীট করেন। কিন্তু হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেন।

তবে হবিগঞ্জে অনুষ্ঠিত চারটি পৌরসভাতেই ভোটার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। উৎসবমূখর পরিবেশে কোন অপ্রিতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।