দিনরাত প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ : ২০ হাজার টাকা দামের মোবাইলের জন্য স্কুলছাত্র ইসমাইল হোসেন বিদয়কে (১২) হত্যা করে প্রতিবেশি ১০ম শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার হোসেন সাইমন।

বুধবার সন্ধ্যায় প্রেস ব্রিফিয়ের মাধ্যমে বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা।

এর আগে বুধবার বিকেলে সাইমন হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে এই হত্যার কথা স্বীকার করে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় সাইমনকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে পুলিশের কাছেও হত্যার কথা স্বীকার করে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়- সাইমন আদালতে হথ্যার দায় স্বিকার করেছে। সে আদালতকে জানিয়েছে- হবিগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘরিয়ায় স্কুলছাত্র ইসমাইল হোসেন (১২) এর বাবা সৌদি আরব প্রবাসী ফারুক মিয়া ২ মাস পূর্বে ছেলের জন্য ২০/২২ হাজার টাকা মূল্যের একটি লেনোভা কোম্পানীর স্মার্ট ফোন প্রেরণ করেন। ইসমাইল সেটি দিয়ে ছবি ও ভিডিও তুলে সবাইকে দেখাত। মোবাইলটির প্রতি লোভ হয় ইসমাইলের পাশের বাড়ী কদর আলীর ছেলে ও হবিগঞ্জ শহরের জে কে এন্ড এইচ কে হাই স্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্র সাইমনের (১৫)। ইসামাইল এর ছবি তোলার নেশাকে কাজে লাগিয়ে গত ১০ জানুয়ারী বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাইমন ইসমাইলকে বলে তাকে দিয়ে সে একটি নাটক বানাবে। এই নাটক ফেসবুকে দিলে যদি ১০০ লাইক পায় তাহলে ইসমাইল ৫০ হাজার টাকা পাবে। শিশু ইসমাইল সরল বিশ^াসে তাতে রাজী হয়। ১০ জানুয়ারী সাড়ে ৩টায় সাইমন ইসমাইলকে নিয়ে বের হয়ে হবিগঞ্জ শহরের ২নং পুল এলাকায় এসে একটি সিএনজি-অটোরিক্সাতে করে সদর উপজেলার বৈদ্যার বাজার এলাকায় যায়। সেখান থেকে পায়ে হেটে খোয়াই নদীর পার দিয়ে ছবি তুলতে তুলতে এবং ভিডিও করে চরহামুয়া এলাকায় যায়। এর মাঝে সন্ধ্যা হয়ে আসলে খোয়াই নদীর চরে গিয়ে সাইমন নাটকের কথা বলে ইসমাইলের হাত-পা বেধে ফেলে। নাটক মনে করে ইসমাইল কোন বাঁধা দেয়নি। হাত পা বেধে মুগুর দিয়ে সাইমন ইসমাইল এর মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে লাশ নদীতে ফেলে সাইমন মোবাইল নিয়ে বাড়িতে চলে আসে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা জানান, হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি মাসুক আলীসহ কর্মকর্তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় দ্রুততম সময়ে আমরা চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছি। আপাতত মনে হচ্ছে সাইমন ছাড়া আর কেউ হত্যাকাণ্ডে জড়িত নেই। তবে তদন্তে আরও কেউ আছে কি না তা জানা যাবে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার রাতে নিহত স্কুলছাত্রের চাচা টেনু মিয়া বাদি হয়ে অজ্ঞাত ৭/৮জনকে আসামী করে হবিগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত সোমবার দুপুর ১২ টায় স্থানীয় লোকজন তার লাশ দেখে সদর থানায় খবর দিলে ওসি মোঃ মাসুক আলীর নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে লাশের সুরতহাল তৈরি করে সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করে। ইসমাইলের পিতা ফারুক মিয়া সৌদি আরব থেকে দেশে আসার পর মঙ্গলবার বিকেলে তার লাশ দাফন করা হয়।