আতঙ্ক যেন পিঁছু ছাড়ছেই না হবিগঞ্জ শহরবাসীর। এক আতঙ্কের পর অপর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে শহরজুড়ে। গেল কয়েকমাস আগে হুট করেই হবিগঞ্জ শহরে দেখা দেয় ‘কিশোর গ্যাং’ আতঙ্ক। এরপর সম্প্রতি শহরে প্রতিরাতেই একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটতে থাকে। এবার প্রকাশ্য দিবালোকে ছুরিকাঘাত করে ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। প্রথমে গৃহবধু, পরে স্কুল শিক্ষিকার পর এবার কলেজ ছাত্রী শিকার হয়েছে ছিনতাইয়ের। ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো সদর থানা পুলিশকে অবগত করা হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে অপরাধীরা।

পুলিশ বলছে, অপরাধীদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছেন তারা। স্থানীয়রা বলছেন, আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে হবিগঞ্জ শহরে। যে কারণে সহসাই ঘটছে এমন অপরাধ কর্মকাণ্ড। অপরাধ দমনে পুলিশকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে বলেও বলছেন সচেতন মহল। একই সাথে শহরের চিহ্নিত অপরাধিদের আইনের আওতায় আনার পরামর্শ তাদের।

শুক্রবার সকাল ১১ টার দিকে শহরের সদর আধুনিক হাসপতাল সংলগ্ন কোরেশনগর এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে শাওলিন আক্তার নামে এক কলেজ ছাত্রীকে ছুরিকাঘাত করে স্বর্ণের চেইন ছিনতাই করে নিয়ে যায় একদল মোটর সাইকেল আরোহী দুর্বৃত্ত। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। দিনে দুপুরে প্রকাশে এরকম ছিনতাইয়ের ঘটনায় উদ্বিগ্ন ওই এলাকার সাধারণ মানুষ।

ছিনতাইয়ে শিকার কলেজছাত্রীর ভাই রবিন আহমেদ জানান, তার মা ও বোন শহরের রাজনগর এলাকায় অবস্থিত বসুন্ধরা টেইলার্স থেকে রিক্সাযোগে বাসায় ফিরছিল। কোরেশনগর এলাকার পাড়ার ভেতরে রাস্তায় রিক্সাটি পৌছামাত্র মোটর সাইকেল আরোহী একদল দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে। পরে কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই তার কলেজ পড়ুয়া বোনকে ছুরিকাঘাত করে সাথে থাকা ৩টি স্বর্ণের চেইন ছিনতাই করে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি জানান, কোরেশনগর একটি আবাসিক এলাকা। যা থানা থেকে মাত্র তিন মিনিটের রাস্তা। এমনস্থানে যদি প্রকাশে দিবালোকে এমন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে তা হলে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা কোথায়?

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার (ওসি) মো. মাসুক আলী জানান, বিষয়টি জানার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার দুপুরে স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে শহরের ঝিলপাড় এলাকায় জলি হালদার নামে এক শিক্ষিকাকে ছুরিকাঘাত করে স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইলসহ টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে যায় একদল দূর্বৃত্ব। এ সময় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে ওই শিক্ষিকা গুরুত্বর আহত হন। ছিনতাইয়ের শিকার শিক্ষিকা জলি হালদার শহরের পুরানমুন্সেফী কোয়ার্টার এলাকার বিপ্লব রায়ের স্ত্রী ও স্টাফ কোয়ার্টার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। এর পুর্বে শহরের অন্তপুর এলাকার কবরস্থান রোডে মোটর সাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তদের কবলে পড়েন এক গৃহবধু। এসময় দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণের চেইনসহ টাকা পয়সা লুট করে নিয়ে যায়।