দুইদিন না গড়াতেই আবারও ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে হবিগঞ্জ। এবার কুয়াশার সাথে যোগ হয়েছে বৃষ্টিও। তবে এই বৃষ্টির উৎস মেঘ নয়, ভারী কুয়াশাই। জলীয়বাষ্প জমে ভারী হয়ে বৃষ্টির মতোই ঝরছে বলে দাবি আবহাওয়া অফিসের। তবে আবারও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভবাবনা রয়েছে বলেও জানায় আবহাওয়া অফিস।

গত বুধবার ঘন কুয়াশার সাথে বৃষ্টি আর ঠান্ডা বাতাসে শৈত্যপ্রবাহের মতো অনুভূতি। তবে বুধবারের চেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে কুয়াশার পরিমাণ ছিল অনেক বেশি। সাথে বেড়েছে শীতের তীব্রতাও। ঘন কুয়াশার কারণে বিভিন্ন যানবাহনের চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মুজিবুর রহমান বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে জানান, শ্রীমঙ্গলে ১৪ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্র ছিল। সেই ক্ষেত্রে হবিগঞ্জের তাপমাত্র নির্ণয় তাদের নিয়ন্ত্রণের আওতার বাহিরে থাকলেও ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল বলে ধারণা দেন তিনি।

যান চলাচলে বিঘ্ন, দূর্ঘটনার শঙ্কা

ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক পথে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। হেডলাইট জ্বালিয়েও রাস্তা না দেখা যাওয়ার কারণে যানবাহনগুলোকে অধিক ধীর গতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে। পরিবহণ সংশ্লিষ্টদের দাবি, ঘন কুয়াশার কারণে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করেও দূর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শায়েস্তাগঞ্জে বাস চালক মো. মনির হোসেন বলেন, ‘সিলেট থেকে বাস নিয়ে শায়েস্তাগঞ্জ আসতে আড়াই ঘন্টা লাগার কথা। কিন্তু এখনে সময় লেগেছে ৫ ঘন্টার উপর। ঘন কুয়াশার কারণে রাস্তা একেবারে দেখা যায় না বললেই চলে।’

তিনি বলেন, ‘রাস্তার অবস্থা এমন যে অনেকটা মৃত্যু শঙ্কা নিয়েই গাড়ি চালাতে হয়েছে। এগুলো যাত্রী নিয়ে এ অবস্থায় বাস চালানো মুঠেই ঠিক না।’

ছিন্নমূল মানুষের দূর্ভোগ

ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি দূর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষরা। তীব্র শীত যন্ত্রনায় ভোগার পাশাপাশি ব্যাঘাত ঘটেছে আয়-রোজগারেও। শীতবস্ত্র না থাকায় অসহণীয় শীতের প্রকোপ নিরবে সহ্য করতে হচ্ছে অসহায় শিশু-বৃদ্ধদের।

ফুটপাতের অনেক ব্যবসায়িদের আয়-রোজগারে প্রভাব ফেলেছে শীত। কুয়াশা ও শীতের কারণে সন্ধার পর পরই সাধারণ মানুষজন ঘরে ফেরায় হচ্ছে না তাদের বেচা-কেনা। এ অবস্থায় দিনে এনে দিনে খাওয়া মানুষগুলোর কষ্টের যেন শেষ নেই।

বাইপাস সড়কে পিঠা বিক্রেতা আনোয়ার মিয়া বলেন, ‘সন্ধার পর পিঠা বিক্রি করে ভালো টাকা আয় হতো। কিন্তু কয়েকদিন ধরে শীত ও কুয়াশার কারণে সন্ধার পর মানুষ ঘরে ফিরে যাচ্ছেন। যে কারণে বিক্রি হয় না একশ’ টাকাও।’

একই কথা জানালেন, ফুটপাতে ঘুরে ঘুরে চানাচুর বিক্রেতা আলতাম হোসেন।