শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ‘দাদন’ (সুদ) ব্যবসার ভয়াবহ ফাঁদ তৈরী হয়েছে। এই ফাঁদে পড়ে সর্বশান্ত হয়েছেন অনেক অসহায় পরিবার। জমি বাড়ি বিক্রি করে হয়েছেন দেশান্তরি।

অন্যদিকে, মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ‘দাদন’ ব্যবসায়িরা গড়ে তুলেছেন ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট। চড়াসুদে ঋণ দিয়ে অসহায়দের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা, জমি-বাড়ি। অল্পদিনেই ‘আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ’ হয়ে উঠেছেন ‘দাদন’ ব্যবসায়িরা। হয়েছেন বিশাল ব্যাংক-ব্যাসন্স ও জমি-জমার মালিক।

গত বছর হবিগঞ্জের স্থানীয় প্রশাসন দাদন ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে মাঠে নামার উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। এ সময় দাদন ব্যবসায়িদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিলেও পরবর্তীতে পিছু হটে প্রশাসন। এখনও সেই উদ্যোগের বাস্তবায়ন হয়নি। যে কারণে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে দাদন ব্যবসায়িরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দাদন ব্যবসায়িদের শীর্ষে রয়েছেন জুয়েলার্সের মালিকরা। সোনা-গহনা বন্ধক রেখে অধিক সুদে ঋণ দিয়ে আখের গোছিয়েছেন নিজেরা। দেনা পরিশোধ করতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার সুযোগে টাকার পাশাপাশি হাতিয়ে নিচ্ছে মূল্যবান সোনাও। অনেকে কাটি সোনা বন্ধক দিলেও টাকা পরিশোধ করার পর পেয়েছেন দুই নাম্বার সোনা।

ধর্মীয় রিতিনীতি ও বাংলাদেশ সরকারের আইন অনুযায়ি ‘দাদন’ ব্যবসা সম্পূর্ণ অবৈধ হলেও প্রকাশ্যেই চলছে রমরমা এই ব্যবসাটি। দাদান ব্যবসায়িদের জালে আটকে শুধু সর্বশান্তই নয়, আত্মহুতি দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে অনেক। কিন্তু এরপরও টনক নড়েনি প্রশাসনের। ‘দাদন’ ব্যবসায় প্রশাসনের নজরধারী না থাকায় প্রতিনিয়িত বাড়ছে অবৈধ এই ব্যবসাটির প্রসার।

অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়- সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে অল্প সুদে ঋণ প্রদান করলেও কাগজপত্রের জায়-ঝামেলা আর নিয়মনীতি না জানার কারণে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে চান না গ্রামাঞ্চলের সহজ সরল মানুষরা। শুধু তাই নয়, একই কারণে শহরের অনেক সচেতন মানুষও ব্যাংক থেকে ঋণ না নিয়ে ছুটে চলেন মহাজনদের পেছনে। ঋণ গ্রহিতাদের অসহায়ত্বের সুযোগে মুছকি হাসি দিয়ে ব্যাংকের খালি চেকের পাতা আর দলিলে সাক্ষর রেখে টাকা ধার দিচ্ছেন। চক্রবৃদ্ধি হারে আদায় করছে টাকা। সময় মতো টাকা পরিশোধ করতে না পারলে খালি চেকের পাতায় ইচ্ছামতো টাকার অঙ্ক বসিয়ে চেক ডিজঅনার মামলা করে কারাভোগ করিয়েছেন অনেককে।

তবে গ্রামাঞ্চলের চিত্রটা ভিন্ন। সেখানে কেউ টাকা নিতে গেলে সোনার গহনা, জায়গা-জমির দলিলের মুল কাগজ বন্ধক রাখা হয়।  য় অর্ধবার্ষিকী হারে মূল টাকার ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ এক হাজার টাকা ঋণের জন্য প্রতি বছর গুণতে হচ্ছে ডাবল সুদও। আর সময়মতো পরিশোধ না করতে পারলে চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধি পায় টাকার পরিমাণ। টাকার পরিমাণ পরিশোদের মাত্রা ছাড়ালেই দাদন ব্যবসায়িরা দখল করে নেয় বাড়ি-জমিসহ বিভিন্ন মালামাল।

গত বছর হবিগঞ্জের স্থানীয় প্রশাসন দাদন ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে মাঠে নামার উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। এ সময় দাদন ব্যবসায়িদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিলেও পরবর্তীতে পিছু হটে প্রশাসন। এখনও সেই উদ্যোগের বাস্তবায়ন হয়নি। যে কারণে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে দাদন ব্যবসায়িরা।