দিনরাত প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জ শহরের দক্ষিণ শ্যামলীতে বাসা ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেহ ব্যবসা করে আসছে একটি চক্র। যেখানে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সুন্দরীদের এনে রমরমা ব্যবসা চালানো হয়।

শনিবার দুপুরে ওই বাসায় স্থানীয়দের সহযোগীতায় ২ কলগার্ল ও ২ খদ্দেরকে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ। এসময় বিষয়টি আঁচ করতে পেরে আরও ২ খদ্দের মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যায়।

আটককৃতরা হলো- সোনিয়া আক্তার ওরফে কেয়া (২০), সুমা আক্তার (২২), নাদিম (১৮), নাহিদ (১৯)।

আটককৃত সুমা আক্তার জানায়, রুমান নামে এক যুবকের নাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তার। সম্প্রতি সুমাকে বেড়ানোর কথা বলে রুমান শহরে নিয়ে আসে। ঘুরা-ফেরার এক পর্যায়ে ওই আস্তানা তাকে বিক্রি করে দেয় রুমান। সেখানে সাদিয়া নামে এক নারী তাকে বিদেশে পাচারের ভয় দেখিয়ে খদ্দেরদের মনোরঞ্জণ করতে বাদ্য করে।

জানা যায়, সাদিয়া ১৬ বছর বয়সে স্বামী পরিত্যাক্ত হয়েই শুরু করে বেপরুয়া জীবন-যাপন। বিলাসবহুল চলা-ফেরার আশায় গ্রামের বাড়ি চুনারুঘাট থেকে চলে আসে হবিগঞ্জ শহরে। বাসা ভাড়া নিয়ে শুরু করে পতিতাবৃত্তি। খদ্দেরসহ একাদিকবার পুলিশ-পশাসনের কাছে আটক হলেও আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে এসে আবার যেই-সেই। ২০১৭ সালে খদ্দেরসহ সদর থানার পুলিশের কাছে আটক হয়। আবার ২০১৮ সালে একাদিক খদ্দের ও কলগার্লসহ শহরের রাজনগর থেকে পুলিশের হাতে আটক হয়ে ভ্রাম্যমান আদালতে ১ মাসের সাজা ভোগ করে।

পরে নিজে এ ব্যবসাকে বড় করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সুন্দরী যুবতীদের এনে গড়ে তুলে মিনি পতিতালয়। কখনো শহরের নতুন বাস স্টান্ডে আবার কখনো বিতাড়িত হয়ে পৌর এলাকার রাজনগরে আবার কখনো শ্যামলীতে।

এ ব্যাপারে সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হক জানান, খবর পেয়ে মেয়ে ও দু’টি ছেলেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। তাদের বিরুদ্ধে আইন-আনুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুক আলী জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আটক করা হয়েছে। আইন-আনুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধী কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।