হবিগঞ্জে আবারও বাড়ছে করোনা সংক্রমণের হার। প্রতিদিনই শনাক্ত হচ্ছে নতুন নতুন রোগী। এমনকি গত রোববার হবিগঞ্জের ১৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এতে জেলায় আবারও করোনা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরা করতে পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

এদিকে, মানুষকে সচেতন করতে মাঠে নেমেছে প্রশাসন। জেলার ৯টি উপজেলায় মাস্ক বিতরণসহ সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন। এছাড়াও মাঠে পরিচালনা করা হচ্ছে ভ্রাম্যমান আদালত।

হবিগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুখলেছুর রহমান উজ্জল জানান, সম্প্রতি সময়ে হবিগঞ্জ জেলায় করোনা শনাক্তের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক সপ্তাহে করোনা শনাক্তের হার বাড়তে থাকে। এই সময়ে ২৭ জনের শরিরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়।

এর মধ্যে রোববার আসা রিপোর্টটি ভাবিয়ে তুলছে স্বাস্থ্য বিভাগকে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ভয়াবহ আতঙ্ক। ওইদিন ১৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৬ জনের শরিরেই মিলেই করোনাভাইরাসের অস্থিত্ব। সবশেষ সোমবার রাতেও জেলায় আরও দুই জনের দেহে করোনার অস্থিত্ব পাওয়া যায়।

এনিয়ে জেলায় মোট শনাক্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ২ হাজার ২৪ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৬৮৪ জন এবং জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৬ জন।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুখলেছুর রহমান বলেন, ‘যেহেতু করোনা ভাইরাস একটি সংক্রমণ রোগ, সেহেতু এর প্রখোব বৃদ্ধি জন্য দায়ি সাধারণ মানুষ। প্রতিটি মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক ব্যবহার করতে চলাচল করলে করোনা সংক্রমণ কমে যাবে।’

এদিকে, গত রোববার ও সোমবার জেলার বিভিন্ন স্থানে মাস্ক বিতরণ করেছেন পুলিশ সদস্যরা। এছাড়া সোমবার ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে স্বাস্থ্য বিধি না মানা ও মাস্ক ব্যবহার না করায় ১০ জনকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক মন্ডল। পাশাপাশি তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে মাস্কও বিতরণ করেন।

এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক মন্ডল বলেন, ‘সারাদেশের ন্যায় হবিগঞ্জেও করোনার সংক্রমণ বেড়ে চলেছে। তাই সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরে চলাচল করতে হবে। এজন্য আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। আমরা চাই মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুখে মাস্ক ব্যবহার করে চলাচল করুক।’