হবিগঞ্জে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। দিন যতই যাচ্ছে করোনা যেন ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করছে। একদিকে যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, অন্যদিকে বাড়ছে মৃত্যুর হার। তবে মানুষ এখনো ফিরেনি পুরোপুরি সচেতনতায়। করোনা প্রতিরোধে জেলা প্রশাসকের দেয়া নির্দেশনাও মানছেন না সাধারণ মানুষ। লক্ষনীয় বিষয় হল, জেলা সদর হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগি ও স্বজনরা, শহরের দোকানপাটের ক্রেতা-বিক্রেতা ও ইজিবাইক (টমটম)সহ বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা সঠিক ভাবে স্বাস্থ্যবিধি নিষেধাজ্ঞা পালন করছে না।

গত ১ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন ৯ দফা নির্দেশনা দিয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। আর এ গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ঘরের

বাইরে বের হলে আবশ্যিকভাবে মুখে মাস্ক পরিধান, সকল জনসমাগম মিছিল, সমাবেশ, সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ। অপ্রয়োজনীয় আড্ডা দেয়া যাবে না এবং রাত ১০টার বেতরে বাসার বাইরে বের হওয়া যাবে না। সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মাস্ক পরিধান এবং স্বাস্থ্য বিধি বাধ্যতামূলকভাবে পালন করতে হবে। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কোচিং সেন্টার বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ রাখতে হবে। সকল পর্যটন স্পট/বিনোদন কেন্দ্র ১ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। সকল হোটেল রেস্টুরেন্টে পর্যাপ্ত আসন সংখ্যার ৫০ ভাগের বেশি গ্রাহক প্রবেশ করবে না। গণপরিবহনে ধারণ ক্ষমতার ৫০ ভাগের বেশি যাত্রী বহন করবে না।

অথচ, প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞা যেন কিছুই না। এর এর কোনটাই মানছেন না সাধারণ জনগণ। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হবিগঞ্জের সচেতন মহল।

সচেতনবাসীর মনে করেন, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মানা আবশ্যক। হাট-বাজারসহ সকল স্থানে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে বাধ্যতা মূলক। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে বেশি বেশি প্রচার-প্রচারনা প্রয়োজন।

গতকাল শনিবার হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষের মুখে মাস্ক নেই। অনেকে সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহার না করে তুথনিতে নামিয়ে রেখেছেন। হাসপাতালের কর্তব্যরতারা রোগি ও তাদের আত্মীয়-স্বজনকে মাস্ক ব্যবহারের কথা বললেও তা মানতে নারাজ তারা। একই অবস্থা শহরের থানা মোড়সহ বিভিন্ন পয়েন্টগুলোতেও। মাস্ক ব্যবহার না করে নির্বিঘেœ সড়ক ও রাস্তা দিয়ে চলাচল করছেন সাধারন মানুষ। একে-অপরের সাথে ঘনিষ্ট আলোচনায় মেতে উঠতেও দেখা যায়। থানার মোড়ে মোটরসাইকেল চালকদের মাস্ক ব্যবহার না করা ও তাদের হেলমেট না থাকার অভিযোগে জরিমানা করেন ট্রাফিকের সার্জেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় তিনি টমটম (ইজিবাইক)-এ ৪ জনের বেশি অতিরিক্ত যাত্রী এবং মাস্কবিহীনদের নামিয়ে দিতে দেখা যায়।

দুপুরে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাস কর্তৃপক্ষকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়, যারা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না তাদের টিকেট না ফিরিয়ে দেন এবং অর্ধেকের বেশি যাত্রি উঠাননি তারা । কিন্তু ওই এলাকার পাশ্ববর্তী দোকান গুলোতে দেখা যায় ক্রেতারা স্বাস্থবিধি না মেনেই মালামাল ক্রয় করছেন। রিকশা চালকরা মুখে মাস্ক ছাড়াই যাত্রী উঠা-নামা করছেন।

এছাড়া হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে স্ত্রীকে চিকিৎসা করাতে আসা সুহেল মিয়া নামে মাস্কবিহীন এক ব্যক্তিকে মাস্ক ব্যবহার করেন না কেন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘এখন করোনা সময় শেষ, মাস্ক থাকলে শ্বাসকষ্ট হয়। এর লাগি মাস্ক লাগাই না’। একই সময় তুথনিতে মাস্ক রাখা বাচ্চা কোলে নিয়ে বসে থাকা ছফিনা বেগম বলেন, ‘করোনা হাসপাতলে আইত না। আর অখন আমার পুরিরে লইয়া বইয়া রইছি। তাই খালি মাস্কে ধইরা টানে। এর লাগি ইটারে তুথাত রাখছি’।

হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘সেবা গ্রহিতারা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। তাদের আমরা বারবার সচেতন হওয়ার কথা বলছি। মুখে মাস্ক পরিধান এবং সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতেও বলা হচ্ছে। কিন্তু তারা তা মানতে নারাজ, করছেন বিপরিত আচরণ। আগামিকাল থেকে সচেতনার প্রচার লিফলেট পুরো হাসপাতালে লাগাবো’। তিনি বলেন, ‘প্রশাসন যদি আরও কঠোর অবস্থানে যায় এবং প্রতিনিয়ত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে তাহলে হয়তো মানুষের মধ্যে সচেতনা বাড়বে।