হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগরে পুলিশ ও বিএনপি’র অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। আহতদের হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালসহ স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়। এ সময় পুলিশ ১২ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করে।

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রুবেল আহমেদ জানান, সারাদেশে নিরীহ মানুষ হত্যার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুর শহরের শায়েস্তানগর এলাকার বিএনপি কার্যালয়ে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। এক পর্যায়ে জেলা কার্যালয় থেকে মিছিল নিয়ে শায়েস্তানগর পয়েন্টে গেলে পুলিশ তাদের বাঁধা দেয়। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে কোন কারণ ছাড়াই পুলিশ তাদের উপর লাঠিপেটা শুরু করে। এতে বিএনপি’র অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয় বেশ কয়েকজন। তাদেরকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার পর বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি অভিযান চালিয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জিকে গউছের ভাই জিকে গফফার, তার ছেলে মঞ্জুরুল কিবরিয়া প্রিতম ও তার ভাতিজা আদনান ফাহাদ রাফিদসহ।’

এ সময় পুলিশ তাদের বাড়ি-ঘরে হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগও করেন তিনি।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুক আলী জানায়, কোন ধরণের অনুমতি ছাড়াই বিএনপি নেতাকর্মীরা শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচল ব্যাহত করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছিল। এসময় তাদের বাঁধা দিলে বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশের উপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে রাস্তায় ব্যরিকেড দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এসময় তাদের হামলায় পুলিশের অন্তত ১০ সদস্য আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১২ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে।

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পূণরায় যে কোন ধরণের অপ্রিতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জিকে গউছ বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কর্মসুচির অংশ হিসেবে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী শান্তিপূর্ণ কর্মসুচি পালন করছিল। এ সময় পুলিশ অতর্কিতভাবে নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায়। এ ঘটনার পর কোন কারণ ছাড়াই পুলিশ আমার বাসায় গিয়ে হামলা ও ভাংচুর করে। এ সময় আমার ভাই, ছেলে ও ভাতিজাকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়।’

তিনি বলেন- আমার ভাই, ছেলে ও ভাতিজার রাজনীতির সঙ্গে কোন সম্পৃক্ততা নেই। তারা কখনো রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল না। আমার ছেলে আমেরিকায় লেখাপড়া করে। ৫ মাস আগে সে দেশে আসে। এছাড়া আমার ভাতিজা নটরডেম কলেজে লেখাপড়া করে। কলেজ বন্ধ থাকার কারণে সেও বাড়িতে আসে। অথচ পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের অপরাধ একটাই, তারা আমরা স্বজন। যে কারণে পুলিশ বাহবা পাওয়ার জন্য তাদের গ্রেপ্তার করেছে।’