বীজতলা তৈরীর উপযুক্ত সময়ে কমেনি হবিগঞ্জের হাওরের পানি। ফলে নির্ধারিত সময়ে কৃষকরা তৈরি করতে পারেননি বীজতলা। এ নিয়ে দুশ্চিন্তর শেষ ছিল না তাদের। পরবর্তীতে সেই হতাশা কাটিয়ে উঠলেও নতুন করে ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ পড়েছে তাদের।

অনেক কষ্টে তৈরী করা বীজতলায় এবার আক্রমণ করেছে ‘বাদামী গাছ ফড়িং বা কারেন্ট পোকা।’ উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কীটনাশকেও নির্মূল হচ্ছে না এসব পোকা। একাধিকবার বীজতলা তৈরী করেও রেহাই পাচ্ছেন না এই পোকার আক্রমণ থেকে।

এ অবস্থায় কৃষকরা হথাশ হয়ে পড়েছেন। এ বছর ধানের চারার অভাবে বিপুল পরিমোণ বোরো জমি অনাবাদি থাকার আশঙ্কা করছেন তারা।

তবে কৃষিকদের ক্ষতির বিসয়টি স্বীকার করতে চায় না কৃষি বিভাগ। তাদের দাবি, সামান্য কিছু জমিতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে তাদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

জানা যায়, হাওর এলাকায় এ সময়ে কৃষকদের ধান রোপনে ব্যস্ত থাকার কথা। কিন্তু হাওরের পানি নামতে বিলম্ব হওয়ায় দেড়িতে তৈরী হয়েছে বীজতলা। তুলনামূলক উচু জমিতে বীজতলা তৈরি করায় সেগুলোতে শুরু হয়েছে এক ধরনের পোকার আক্রমণ। যাকে বলা হয় ‘বাদামী গাছ ফড়িং বা কারেন্ট পোকা’।

একদফা আক্রমণের পর কৃষকরা পুণরায় বীজ বপন করেন। কিন্তু আবারও সেই বীজতলা একই ধরণের পোকার আক্রমণ শুরু হয়েছে।

এ পোকার আক্রমণে রোপন করার মত চারা তৈরি হয়নি কোন বীজতলায়। ছোট ছোট এই পোকা খেয়ে ফেলছে চারা। কৃষকরা প্রয়োগ করছেন বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক। কিন্তু এতেও কাজ হচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই পোকার সবচেয়ে বেশি আক্রমণ হয়েছে বানিয়াচং উপজেলায়। এছাড়াও লাখাই, আজমিরীগঞ্জ বাহুবল ও নবীগঞ্জ উপজেলাতেও আক্রমণ করেছে ছোট এই পোকাটি।

বানিয়াচং উপজেলার সুবিদপুর গ্রামের কৃষক মঙল সরকার অভিযোগ করে জানান, হাওরে এ পোকার আক্রমনের সাথে এর আগে পরিচিত নন তারা। ফলে কিভাবে এরকম পোকার আক্রমণ থেকে রেহাই পাওয়া যায়, সে ব্যাপারে কোন পরামর্শ বা সরকারী সহযোগীতা পাওয়া যাচ্ছে না।

একই উপজেলার কবিরপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল কবির বলেন, ‘আমি ১২ খের (২৮ শতকে এক খের) জমি করেছি। এ জমি রোপন করতে ৫২ শতক জমিতে বীজতলা তৈরী করেছি। কিন্তু পোকার আক্রমণের কারণে একটা জমিও রোপন করতে পারব না। বাহির থেকে চারা কিনে আনতে হবে।’

একই গ্রামের কৃষক মো. তৈয়ব উল্যাহ বলেন, ‘আমাদের গ্রামের অধিকাংশ কৃষকেরই বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কিনে এনে জমি রোপন করতে হবে। আর যদি চারা কিনতে না পাওয়া যায় তাহলে জমি পতিত থাকবে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে এ বছর হবিগঞ্জ জেলায় ১ লক্ষ ২০ হাজার ৯শ’ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যে জমি রোপন করতে বীজতলার প্রয়োজন হবে প্রায় ৫ হাজার ৫২৮ হেক্টর জমির। সেখানে এ বছর জেলায় বীজতলা তৈরী হয়েছে ৬ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ অতিরিক্ত বীজতলার পরিমাণ ৯৭২ হেক্টর।

তাদের দাবি, এ বছর কৃষকদের সরকারিভাবে অতিরিক্ত বীজ দেয়ার কারণে বেশি পরিমাণে বীজতলা তৈরী হয়েছে। জেলায় ৭০ হাজার কেজি বীজ সরকারিভাবে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. তমিজ উদ্দিন বলেন, ‘কৃষকরা যেভাবে অভিযোগ করছে সেভাকে ক্ষতি হয়নি। পোকার আক্রমণ শুরু হওয়ার সাথে সাথেই কৃষি অফিস থেকে সরকারিভাবে স্প্রে করা হচ্ছে। এছাড়া কৃষকদেরও বিভিভাবে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যে কারণে ক্ষতি তেমন হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু চাহিদার চেয়ে বেশি বীজতলা তৈরী হয়েছে। সেহেতু কিছু ক্ষতি হলেও কৃষকরা সংকটে পড়বেন না।’