দিনরাত প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ : বেশ কয়েকদিন ধরেই সারাদেশে পেঁয়াজের দাম নিয়ে তুলপাড় চলছে। ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছাড়িয়েছে পেঁয়াজের দাম। কিন্তু এই পেঁয়াজের সংঙ্কট ও অতিরিক্ত দামের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার শুরু হয়েছে লবনের দাম বৃদ্ধির গুজব। আর এ গুজব ব্যবসায়িদের কানে পৌঁছামাত্রই অধিক মুনাফার আশায় লবন বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন হবিগঞ্জের ব্যবসায়িরা।

সোমবার রাত ৮টার পর হবিগঞ্জের ব্যবসায়িদের মধ্যে লবনের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পরপরই লবন বিক্রি বন্ধ করে দেন পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা। ফলে জেলা শহরে লবনের কৃত্রিম সংঙ্কট তৈরী হয়েছে। কোথাও মিলছে না লবন।

সোমবার রাত ৯টার পর জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে গিয়ে লবন পাচ্ছেন না ক্রেতারা। লবন নেই বলে ক্রেতাদের ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। ফলে জেলাজুড়ে এখন লবনের জন্য এক রকম হাহাকার শুরু হয়েছে। এবার লবনের দামও আকাশ চুম্মি হওয়ার শঙ্কা বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

তবে ক্রেতাদের দাবি- বিকেলে বেলায় যে দোকানগুলোতে বস্তা ভর্তি বিভিন্ন কোম্পানীর লবন দেখা গেছে, সেই দোকানগুলোতে রাত ৮টার পর থেকে এক কেজি লবনও পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের দাবি অধিক মুনাফার আশায় ব্যবসায়িরা দোকানে থাকা লবনগুলো সরিয়ে নিচ্ছেন। এক-দুইদিন পর লবনের দাম বাড়লে সেগুলো থেকে অধিক মুনাফা পেয়ে বিক্রির পায়তারা করছেন ব্যবসায়িরা।

তবে ব্যবসায়িরা বলছেন অন্য কথা। তাদের দাবি- বেশ কয়েকদিন ধরেই পাইকারি বাজারে লবনের স্বল্পতা দেখা দেয়। সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে পাইকারী বাজারে লবন পাওয়া যাচ্ছে না। আর লবণের সংঙ্কটের কথা শুনে সচেতন নাগরিকরা খুচরা দোকানীদের কাছে লবন কিনতে ভীর করেন। যার ফলে লবনের তীব্র সংঙ্কট দেয়া দিয়েছে।

শহরের সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা মো. হারুন চৌধুরী বলেন- ‘সম্পুর্ণ হবিগঞ্জ শহর ঘুরেও লবন পাইনি। পেঁয়াজের পর এবার লবন নিয়ে ব্যবসায়িরা সিন্ডিকেট তৈরী করছেন। দোকানে লবন রেখেও ব্যবসায়িরা লবন বিক্রি করছেন না।’

চৌধুরী বাজারে লবন কিনতে আসা ক্রেতা রাখাল দাস বলেন- ‘একটু আগেও প্রত্যেকটা দোকানে বস্তার-বস্তা লবন ছিল। কিন্তু এখন কোন দোকানেই লবন পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যবসায়ি অধিক মুনাফার আশায় এভাবে একের পর এক দেশের মানুষকে জিম্ম করার চেষ্টা করছে, এটা ঠিক না।’

তিনি বলেন- ‘প্রশাসনের এখন উচিত, প্রতিটি দোকানে অভিযান চালিয়ে যে দোকানে লবন পাবে তাদের লাখ লাখ টাকা জরিমানা করা। তাহলে ব্যবসায়িরা আর এভাবে সিন্ডিকেট তৈরী করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করতে পরেবে না।’

এ ব্যপারে চৌধুরী বাজার এলাকার ব্যবসায়ি মো. রমজান আলী বলেন- ‘বেশ কয়েকদিন ধরেই পাইকারী বাজারে লবন কম আসছিল। আজ সন্ধ্যার পর হঠাৎ করে দোকানে ক্রেতারা লবন কেনার জন্য ভীর করেন। নিমেষেই দোকানে থাকা সব লবন শেষ হয়ে যায়। তাই এখন আর লবন বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।’

একই এলাকার ব্যবসায়ি নারায়ন পাল বলেন- ‘লবনের সংঙ্কট দেখা দিয়েছে তা আমরা নিজেরাও জানি না। সন্ধ্যার পর হঠাৎ দোকানে লবন বিক্রি বেড়ে যায়। তখনও বুঝতে পারিনি বিষয়টি কি ? কিন্তু যখন দোকানের লবন শেষ হয়ে গেছে তখন পাইকারের কাছে লবনের জন্য ফোন করলে, লবন নেই বলে তারা জানায়।’

তবে বাজার মনিটরিংয়ের বিষয়ে জানতে জেলা ভুক্ত অধিকার সংরক্ষণ অফিসে বারবার ফোন করলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।