হবিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ বেশ শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোন অপ্রিতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। কোন প্রার্থীও এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ করেননি। তবে প্রতিটি কেন্দ্রেই ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। সকাল থেকে নারী ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা থাকলেও কোন কেন্দ্রেই ছিল না পুরুষ ভোটারের উপস্থিতি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেলা বাড়লে ভোটার উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে।

রোববার সকাল ৮টা থেকে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের মাধ্যমে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম অবস্থায় নারী ভোটারদের উপস্থিতি থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে কমতে থাকে ভোটারের সংখ্যা। বেলা ১২টার পর থেকেই ভোটার শুন্য হয়ে পড়ে অনেক কেন্দ্র।

হবিগঞ্জ পৌরসভার জেকে এন্ড এইচ কে কেন্দ্র, রামচরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, নিরাদময়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, উদেনগর মাদ্রাসা কেন্দ্র, স্টাফ কোয়াটার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ঘুরে একই অবস্থা দেখা যায়।

তবে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে উমেদনগর মাদ্রাসা কেন্দ্রে। বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এই কেন্দ্রে ৪০ শতাংশের মতো ভোট পড়েছে। এছাড়া, রামচরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩৪ শতাংশ, স্টাফ কোয়াটার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩০ শতাংশ, জেলা পরিষদ কেন্দ্রে ৩০ শতাংশ ভোট পড়েছে।

হবিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ জন প্রার্থী। এরা হলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত জেলা যুবলীগ সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম (নৌকা), হবিগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র মিজানুর রহমান মিজান (নারিকেল গাছ), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল (বিএনপি) মনোনীত জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক এডভোকেট এনামুল হক সেলিম (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (পীর সাহেব চরমোনাই) মনোনীত হবিগঞ্জ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি (ব্যকস) সভাপতি আলহাজ্ব মো. শামছুল হুদা (হাত পাঁখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী বশিরুল আলম কাওছার (মোবাইল ফোন) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট’র আইনজীবি গাজী পারভেজ হাসান (জগ)।

এছাড়াও নির্বাচনে ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৩৯ ও ৩টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১৭ জনসহ ৬২ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

১৮৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত ৯ দশমিক ০৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের প্রথম শ্রেণির এ পৌরসভায় বসবাস করেন প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। নির্বাচন কমিশনের দেয়া সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী ‘পায়জামা আকৃতির শহর’ নামে খ্যাত এ পৌরসভার ভোটার সংখ্যা ৫০ হাজার ৯০৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা ২৫ হাজার ৬২০।

এখানে সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর। ১৯৪৭ সাল থেকে সংরক্ষিত পৌরসভার দাপ্তরিক তথ্যানুযায়ী এবার নির্বাচিত হবেন ৩২তম নগর পিতা।