মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাথাগোঁজার ঠাঁই পাচ্ছেন হবিগঞ্জের ৭৮৭টি গৃহহীন পরিবার। ইতোমধ্যে কাজ অনেকাংশেই শেষ হয়েছে। ২৩ জানুয়ারি প্রথম ধাপে ৩২৫টি ঘর হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে। দ্বিতীয় ধাপে বাকি ঘরেরও নির্মাণ কাজ চলছে দ্রুতগতিতে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান।

তিনি জানান, প্রতিটি ঘর নির্মাণে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। আর প্রতিটিতে পরিবহন ব্যয় হিসেবে দেয়া হয়েছে আরও ৪ হাজার টাকা। ঘরগুলো ইতোমধ্যেই প্রস্তুত হয়ে উঠছে। দ্রুতগতিতে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ২৩ জানুয়ারি প্রথম ধাপে ৩২৫টি ঘর হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। বাকিগুলোর কাজ শেষ হতে আরও কিছু সময় লাগবে। সুবিধাভোগীদের কাগজপত্রও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

আগামী ২৩ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০ টায় উপকারভোগী পরিবারের নিকট গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার সাথে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে সংযুক্ত হবেন।

হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের প্রেস বিফিং


জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলায় ১৩৫টির মধ্যে প্রথম ধাপে ৫০টি ও দ্বিতীয় ধাপে ৮৫টি। শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় ৫৫টির মধ্যে প্রথম ধাপে ৩০টি ও দ্বিতীয় ধাপে ২৫টি। লাখাইয়ে ৭৭টির মধ্যে প্রথম ধাপে ৫২টি ও দ্বিতীয় ধাপে ২৫টি। নবীগঞ্জে ১১০টির মধ্যে প্রথম ধাপে ৬০টি ও দ্বিতীয় ধাপে ৫০টি। বানিয়াচংয়ে ১০৫টির মধ্যে প্রথম ধাপে ৫৫টি ও দ্বিতীয় ধাপে ৫০টি। আজমিরীগঞ্জে ৮৮টির মধ্যে সবগুলোই প্রথম ধাপে। চুনারুঘাটে ৮০টির মধ্যে সবগুলোই প্রথম ধাপে। বাহুবলে ৫৭টির মধ্যে প্রথম ধাপে ৭টি ও দ্বিতীয় ধাপে ৫০টি এবং মাধবপুর উপজেলায় ৮০টির মধ্যে প্রথম ধাপে ৩০ ও দ্বিতীয় ধাপে ৫০টি। সর্বমোট প্রতিটি ঘরের জন্য ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

ওই হিসেবে প্রথম ধাপের ৪৫২টি ঘরের জন্য মোট বরাদ্দ দেয়া হয় ৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা। আর দ্বিতীয় ধাপের ৩৩৫টি ঘরের জন্য মোট বরাদ্দ দেয়া হয় ৫ কোটি ৮৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা। সর্বমোট বরাদ্দ দেয়া হয় ১৩ কোটি ৭৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা; যার মধ্যে শুধু ঘর নির্মাণের জন্য ১৩ কোটি ৪৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। আর পরিবহন ব্যয় বাবদ দেয়া হয় ৩১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।