হবিগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলার আজমিরীগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলার বেশ কয়েকটি হাওরের বোরো জমির ধানগাছ ভেঙে মাটিতে পড়ে গেছে। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা ও কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার বেশ কয়েকটি হাওরেও এ ক্ষতি হয়েছে। এতে মাথায় হাত পড়েছে কয়েক হাজার কৃষকের। যদিও কৃষি বিভাগের দাবি, শিলা বৃষ্টিতে তেমন ক্ষতি হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে হঠাৎ কাল বৈশাখিসহ শিলা বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় ঘন্টাখানেক স্থায়ী ছিল এই শিলা বৃষ্টির। হবিগঞ্জের বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, সুনামগঞ্জের শালা ও কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার উপর দিয়ে শিলা বৃষ্টি বয়ে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ওই এলাকাগুলোর হাজার হাজার হেক্টর বোরো জমি।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে- বানিয়াচং উপজেলার আড়িয়ামুকুর হাওর, হারুনী হাওর, কাটখালি হাওর, আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর হাওর, ভেড়ারডোর হাওর, চর ভেড়ারডোর হাওর, পাহারপুর হাওর। এছাড়াও ছোট ছোট বেশ কয়েকটি হাওরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কৃষকরা জানান, দীর্ঘ সময় নিয়ে শক্তিশালি শিলা বৃষ্টি হওয়ায় হাওরের বোরো জমিগুলো মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এছাড়া অধিকাংশ বোরো জমির ধান গাছগুলোর গুড়াতে ভেঙে গেছে। যেগুলোতে আর ধান আসার সম্ভাবনাই নেই। এতে মাথায় হাত পড়েছে দুই উপজেলার কয়েক হাজার কৃষকের। জমির এই পরিণতি দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

এ ব্যাপারে বানিয়াচং উপজেলার কৃষক ব্রজেন্দ্র দাশ বলেন, ‘অখনঅ (এখনও) জমিত ধান আইছে না। কিন্তু গতকাল রাত্রে পাথর পইরা (শিলা বৃষ্টিতে) সব গাছ নষ্ট হইয়া গেছেগা। কোন কোন জমির ধানগাছগুলো একবারে গুড়িত ভাইঙা শেষ। ইতাত আর ধান আইত না।’

একই গ্রামের কৃষক মতিলাল দাশ বলেন, ‘আমার দুই আল (৪৫৬ শতক) জমি একবাওে নষ্ট হইয়া গেছেগা। এই জমির ধান দিয়া আমার জীবন চলে। পুলাপানরে লেখাপড়া করাই। অখন নিজেই কিতা খাইমু, পুলাপানরে কইতিক্কা লেখাপড়া করামু বুঝতেছি না।’

বদলপুর এলাকার কৃষক আহাদ আলী বলেন, ‘রাতে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। সাথে বড়বড় শিলা বৃষ্টিও শুরু হয়। সকালে হাওরে গিয়া দেখি জমিগুলো একেবারে মাটির সাথে মিশাইলাইছে। এই জমিগুলা থাইক্কা আর ধান পাওয়ার আশা নাই।’

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ তমিজ উদ্দিন বলেন, শিলাবৃষ্টি হয়েছে। তবে জমির তেমন ক্ষতি হয়নি। আমাদের মাঠকর্মীরা হাওরে রয়েছেন। তারা আসলেই আসলে ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যাবে।’