সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে চলতি অর্থ বছরে হবিগঞ্জ জেলায় সরকারের বিভিন্ন ধরনের ভাতা ও সুদমুক্ত ঋণের সুবিধা নিচ্ছেন ২ লাখ ২ হাজার ২৯২ জন মানুষ। এর মাঝে ১২ রকমের ভাতার আওতায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৪ জন ও ৪ ধরণের সুদমুক্ত ঋণ পাচ্ছেন ৬৭ হাজার ২শ’ ৭৮ উপকারভোগী।

সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১০ ধরনের স্থায়ী ভাতাভোগীর তালিকায় থাকা ১ লাখ ২১ হাজার ৩০৫ জন অর্থ বছরের শুরুতেই তিনমাসের ভাতা হিসেবে ১৯ কোটি ৯০ লাখ ১৩ হাজার ৫শ’ ৫০ টাকা পাচ্ছেন। তারা এ অর্থ বছরে আরও তিনবার একই পরিমাণ টাকা পাবেন। এছাড়া ২০২০-২১ অর্থ বছরে বিভিন্ন ধরণের রোগে আক্রান্ত ৯শ’৪১ জনের মাঝে এককালীন ৪১ লাখ এবং চা শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়নের জন্য আরও ১২ হাজার ৭শ’৬৮ জনকে মাথাপিছু ৫ হাজার করে দেওয়া হচ্ছে এককালীন ৬ কোটি ৩৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

এদিকে, সরকার ২০২০-২১ অর্থ বছরে জেলার ৬৭ হাজার ২শ’৭৮ জনকে সুদমুক্ত ঋণ দিচ্ছে ১০ কোটি ১৩ লাখ ১১ হাজার ৬শ’৫ টাকা। তবে ঋণের বিপরীতে তাদের কাছ থেকে সার্ভিস চার্জ হিসেবে ৫ শতাংশ টাকা বেশি নেয়া হবে।

স্থায়ী ভাতাভোগীদের জন্য তিন মাসের বরাদ্দ এসেছে ৬৯ হাজার ১৬ জন বয়স্কের জন্য ১০ কোটি ৩৫ লাখ ২৪ হাজার; ২৪ হাজার ৬৯৪ জন প্রতিবন্ধীর জন্য ৫ কোটি ৫৫ লাখ ৬১ হাজার ৫শ’ ও এদের ১ হাজার ৬শ’ ১৬ জনের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি ৩৮ লাখ ৪ হাজার ৭শ’ ৫০; বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও দুস্থ মহিলা ভাতাভোগী ২৪ হাজার ৭৭ জনের জন্য ৩ কোটি ৬১ লাখ ১৫ হাজার ৫শ’; হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়ন কর্মসূচির বিশেষ ভাতা ৩ জনের জন্য ৫ হাজার ৪শ’, এদের আরও একজনের শিক্ষা উপবৃত্তির জন্য ২ হাজার ৪শ’ টাকা। অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান কর্মসূচির শিক্ষা উপবৃত্তি ভাতা পাচ্ছেন ২শ’৯৬ জন, বেদে জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়ন কর্মসূচির বিশেষ ভাতা ৩৫ জন ও এ সম্প্রদায়ের আরও দুইজন পাচ্ছেন শিক্ষা উপবৃত্তি।

অন্যদিকে, পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রমের মাধ্যমে জেলার ৬১ ইউনিয়নের ১৩৮টি গ্রামে ১৬ হাজার ৬২১ জনের জন্য সুদমুক্ত ঋণের তহবিল এসেছে ৪৯ লাখ, ৭৮ ইউনিয়নের ৪৯৩টি গ্রামের ৩৬ হাজার ৬শ’৪ জনের জন্য পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রমের (এসআরএস) ২ কোটি ৬৭ লাখ ১৪ হাজার ৮শ‘৫৬ টাকা, পল্লী মাতৃকেন্দ্র কার্যক্রমের (আরএমসি) আওতায় ৪৩ ইউনিয়নের ১৩৯টি গ্রামে ৪ হাজার ৫৬৩ জনের জন্য ১ কোটি ১৬ লাখ ৬৯ হাজার ১শ’৮০ হাজার ৮০ টাকা এবং ৬১ ইউনিয়নের ২ হাজার ৪৯০ জন দগ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পুনর্বাসনের জন্য ঋণের তহবিল গঠন হয়েছে আরও ১ কোটি ৩৯ লাখ ৩৭ হাজার ৫শ’৬৯ টাকা।

একই অর্থ বছরে ক্যান্সার, কিডনী, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগী এবং থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ৯শ’ ৪১ জনকে এককালীন ৪১ লাখ টাকার চিকিৎসা সহায়তা ও চা শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় মাথাপিছু ৫ হাজার করে ১২ হাজার ৭শ’ ৬৮ জন পাচ্ছেন আরও ৬ কোটি ৩৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

সমাজ সেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বিভিন্ন ধরণের সরকারি ভাতা ভোগীরা তিন মাস পর পর ভিন্ন পরিমাণে ভাতা পেয়ে থাকেন। চিকিৎসা সহায়তা এককালীন এবং তালিকাভুক্ত সুদমুক্ত ঋণের সুবিধাভোগীদের ভাতা বিতরণ কার্যক্রমও চলমান। তাদের কাছ থেকে টাকার বিপরীতে ৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জ নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সরকারের অনুসৃত নীতি অনুযায়ী ‘দরিদ্র ঘুচাও-বৈষম্য রুখো’ দর্শন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। অসহায় বিপন্ন দরিদ্র মানুষকে সেবা করার অঙ্গীকার নিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আর অসহায় ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার জন্য গ্রহণ করা হচ্ছে নতুন নতুন কর্মসূচি। সেবাগুলো মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য তিনি ও তার দপ্তরে কর্মরতরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাদের এবারের প্রতিপাদ্য ‘ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে, সেবা ও সুযোগ প্রয়োজন’।