টিকা নেয়ার ক্ষেত্রে প্রথম অবস্থায় এক শ্রেণির মানুষের মধ্যে অনিহা দেখা দিলেও সেই অনিহা এখন কেটে গেছে। স্বয়ংষ্ফূর্তভাবে টিকা গ্রহণ করছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে টিকা গ্রহণের সংখ্যা ও নিবন্ধনকারীর সংখ্যা।

টিকা প্রয়োগের ক্ষেত্রেও বেশ গতি রয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের। যে কারণে আগ্রহীরা নিবন্ধন করার পরদিনই টিকা নিতে পারছেন। এছাড়া টিকা প্রয়োগের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

হবিগঞ্জে ৮ দিনে টিকা নিয়েছেন ২১ হাজার ৩৩৬ জন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত জেলার ৭টি উপজেলায় এ সকল টিকা দেয়া হয়।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মো. আবু জাহিরকে টিকা প্রয়োগের মধ্য দিয়ে হবিগঞ্জে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ওইদিন জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান, উপজেলা চেয়ারম্যান মুতাচ্ছিরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মুস্তাফিজুর রহমান টিকা নেয়ার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে টিকা নেয়ার ব্যাপক আগ্রহ দেখা দেয়। এরপর থেকে টিকা নিতে বাড়তে থাকে নিবন্ধনের সংখ্যা।

ওইদিন টিকা নেন ৩৪২ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ১০২ জন, আজমিরীগঞ্জের ২৫ জন, বাহুবলের ৩৯ জন, বানিয়াচংয়ের ৮ জন, চুনারুঘাটের ৪০ জন, লাখাইয়ের ৪০ জন, মাধবপুরের ৪০ জন এবং নবীগঞ্জ উপজেলার ৪৮ জন।

পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি টিকা নেন ৫২১ জন। এর মধ্যে আজমিরীগঞ্জে ৩০ জন, বাহুবলের ২২ জন, বানিয়াচংয়ের ৩৬ জন, চুনারুঘাটের ৭০ জন, হবিগঞ্জ সদরের ১৭৩ জন, লাখাইয়ের ৩০ জন, মাধবপুরের ১১০ জন ও নবীগঞ্জ উপজেলার ৫০ জন।

৯ ফেব্রুয়ারি টিকা নেন ১ হাজার ৩৬৮ জন। মধ্যে আজমীরীগঞ্জের ৩০ জন, বাহুবলের ১০৪ জন, চুনারুঘাটের ৬৮ জন, হবিগঞ্জ সদরের ৫৭২ জন, লাখাইয়ের ৫০ জন, মাধবপুরের ১৬০ জন এবং নবীগঞ্জ উপজেলার ১৯০ জন।

১০ ফেব্রুয়ারি টিকা নেন ৯ ফেব্রুয়ারির দ্বিগুণ মানুষ। ওই দিন নিয়েছেন ২ হাজার ৩১৪ জন। এর মধ্যে আজমীরীগঞ্জের ১০৯ জন, বাহুবলের ১৩০ জন, বানিয়াচংয়ের ১৬৯ জন, চুনারুঘাটের ২১৮ জন, সদর উপজেলার ৮৭০ জন, লাখাইয়ের ৭০ জন, মাধবপুরের ৩০৬ জন এবং নবীগঞ্জের ৪৪২ জন।

১১ ফেব্রুয়ারি টিকা নেয়া ২ হাজার ৮৫৭ জনের মধ্যে আজমীরীগঞ্জে ১৭৬ জন, বাহুবলের ১৮০ জন, বানিয়াচংয়ের ১৫৭ জন, চুনারুঘাটে ২৯০ জন, সদর উপজেলার ১ হাজার ৯২ জন, লাখাইয়ের ১১০ জন, মাধবপুরের ৩৩৩ জন, নবীগঞ্জ উপজেলার ৫১৭ জন।

১২ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

১৩ ফেব্রুয়ারি টিকা নেন ২ হাজার ৭৩৬ জন। এর মধ্যে আজমীরীগঞ্জের ২০০ জন, বাহুবলের ২৪০ জন, বানিয়াচংয়ের ১১৯ জন, চুনারুঘাটের ১৯১ জন, সদর উপজেলার ১ হাজার ২৭ জন, লাখাইয়ের ৮০ জন, মাধবপুরের ৪৬৯ জন এবং নবীগঞ্জ উপজেলার ১৫৯ জন।

১৪ ফেব্রুয়ারি টিকা নেন ২ হাজার ৬০ জন। এর মধ্যে আজমিরীগঞ্জের ১৯১ জন, বাহুবলের ২৮০ জন, বানিয়াচংয়ের ৭৩ জন, চুনারুঘাটের ১০৭ জন, সদর উপজেলার ৭৯৬ জন, লাখাইয়ের ৭০ জন, মাধবপুর উপজেলার ৩১৪ জন এবং নবীগঞ্জের ২২৯ জন।

১৫ ফেব্রুয়ারি ৩ হাজার ৪৫৮ জন টিকা নিয়েছেন। এর মধ্যে আজমিরীগঞ্জের ২৬১ জন, বাহুবলের ২০০ জন, বানিয়াচংয়ের ১৮১ জন, চুনারুঘাটয়ের ২৩৯ জন, সদরের ১ হাজার ২৭৭ জন, লাখাই উপজেলার ১৮০ জন, মাধবপুরের ৪৯৩ জন এবং নবীগঞ্জ উপজেলার ৬২৬ জন।

সবশেষ ১৬ ফেব্রুয়ারি টিকা নিয়েছেন ২ হাজার ৯৮০ জন। এর মধ্যে আজমিরীগঞ্জের ২০০ জন, বাহুবলের ৪২০ জন, বানিয়াচংয়ে ২৪৫ জন, চুনারুঘাট উপজেলার ২১৩ জন, সদর উপজেলার ৯৫১ জন, লাখাই ১৭০ জন, মাধবপুর উপজেলার ৪৫০ জন, নবীগঞ্জ উপজেলার ৩৩০ জন।

হবিগঞ্জে করোনা টিকা প্রদানের জন্য ২৪টি টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি টিমে ২ জন ভ্যাকসিন ডোজার এবং ৪ জন করে সেচ্ছাসেবি রয়েছেন। সেই হিসাবে হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালের ৮টি বুথ স্থাপক করা হয়েছে। এছাড়াও ৭টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২টি করে বুথ বসানো হয়েছে। পাশাপাশি জেলায় দুটি বুথ স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে তাদেরকের কাজে লাগানো হবে।