দিনরাত প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জ গ্যাস ফিল্ডের অভ্যন্তরে ভিন্নধর্মী উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন এক পর্যটন কেন্দ্র। রঘুনন্দন পাহাড়ের পাদদেশে দৃষ্টিনন্দন এই পর্যটন কেন্দ্র দর্শক-পর্যটকদের যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে। যার নাম ‘ফ্রুটস ভ্যালী’।

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজীবাজার এলাকায় হবিগঞ্জ গ্যাস ফিল্ডের ফ্রুটস ভ্যালী’র মূল পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেন গ্যাস ফিল্ডের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) এটিএম নাছিমুজ্জামান। ২০০৫ সালে ৫ একর জমির উপর ‘ফ্র্রুটস ভ্যালী’ তৈরীর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সংরক্ষিত এলাকার এই পর্যটন কেন্দ্রটি নিরাপত্তাজনিত কারণে জনগণের জন্য উন্মক্ত না হলেও দেশবরেণ্য জ্ঞানী-গুনীসহ সরকারের উর্ধ্বতন মহল পরিদর্শন করেছেন। নানাজাতের মূল্যবান বৃক্ষাদিও রোপন করে গেছেন। ফলে-ফুলে ভরে উঠেছে এই ‘ফ্রুটস ভ্যালী’।

দেশী-বিদেশী গাছ-গাছালী, পাখি আর নানা রকম প্রাণীর অবাধ বিচরণ এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশকে গড়ে তুলেছে অনন্য। হবিগঞ্জ গ্যাস ফিল্ডের অভ্যন্তরে এই ফ্রুটস ভ্যালীতে দেশী-বিদেশী ১শ’ ৯৫ জাতের ফল ও ঔষধী গাছ রয়েছে। এর মধ্যে হারিয়ে যাওয়া ২৪ জাতের বিরল ফলজ বৃক্ষ, ১২ প্রকার প্রাণী, ১০ প্রকার ঔষধী গাছ, ১৬ জাতের সবজি গাছ, খরগোস, গিনিপিক ও বিরল প্রজাতির মাছ রয়েছে। খাচায় রয়েছে ময়না, তোতা, সবুজ-লাল-সাদা-তিলা রঙের ঘুঘু, জাভা চড়ই, ককোলেট, কুয়েল, বাজুরিকা, চন্দনা, মুনিয়া, দোয়েলসহ ১৩ প্রজাতের পাখি। পাশাপাশি ৮ জাতের কবুতর, ২টি টারকি ছাড়াও খাচায় রয়েছে বিভিন্ন জাতের খরগোশ। ফোয়ারার বেষ্টনীর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন জাতের মাছ ও কচ্ছপ। সংগৃহীত ফলের গাছের মধ্যে কিছু বিদেশী ফলের গাছও রয়েছে।

‘গাছ লাগান-দেশ বাচান’ এবং প্রধানমন্ত্রীর ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ শ্লোগানকে বুকে লালন করে হবিগঞ্জ গ্যাস ফিল্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একটি অফিসকে একটি খামার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই ফ্রুটস ভ্যালীকে আকর্ষণীয় করে তুলেছেন।

তাদের দাবি, সংলগ্ন টিলারকম আরো ভূমি এর আওতায় আনা হলে ফ্রুটস ভ্যালীকে আরো স¤প্রসারণ করা সম্ভব। যা দেশের হারিয়ে যাওয়ার বিরল প্রজাতির ফলজ, ঔষধী গাছ-গাছালি, বিলুপ্ত প্রায় পশু-পাখি ধরে রাখার অনন্য এক পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হয়ে থাকবে।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ গ্যাস ফিল্ডের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা ‘একটি বাড়ি, একটি খামার’ এ প্রকল্পকে অনুসরণ করে ‘একটি অফিস, একটি খামার’ হিসেবে এটিকে গড়ে তোলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রিয় মাতৃভূমির জন্য এখন আমরা হুমকি হয়ে পড়েছি। এ হুমকি কাটিয়ে উঠতে সবাই মিলে প্রকৃতিকে সাজিয়ে তুলতে হবে। আমাদের নাড়ির বা শেকড়ের যে টান, তা আমরা ভুলে যাচ্ছি। যে কারণে মানুষের মধ্যে হিং¯্রতা বাড়ছে। যারা প্রকৃতিকে ভালোবাসে তারা কখনো হিংস্র হতে পারে না।’