একই সূঁই দিয়ে সেলায় দেয়া হয় একাধিক রোগীকে, বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

দিনরাত প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ : অনিয়ম, দূর্নীতি আর অব্যবস্থাপনা যে পিছুঁ ছাড়ছে না হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের। এমপি-মন্ত্রীসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কড়াকড়ি নির্দেশও যেন গায়েই লাগছে না হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি এবার অভিযোগ উঠেছে পরিচ্ছন্ন কর্মী দিয়ে চিকিৎসা প্রদাননে। যদিও এই কর্মকাণ্ড অনেক পুরনো বলে দাবি করেছেন অনেক রোগীরা। আবার বিষয়টি শিকারও করেছেন হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের কয়েকজন স্টাফ। তবে মানতে নারাজ তত্বাবধায়ক।

অনেক রোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার সরেজমিনে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। সেখানে গিয়ে দেখা যায় জরুরী বিভাগে রোগেদের সেঁলাই, ব্যন্ডেস থেকে সব ধরণের কাজই করছেন পরিচ্ছন্নকর্মী কিশোর লাল ও আবুল হোসেন। এমনকি গার্ডের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি ও অফিস সহকারীরা বিভিন্ন সময় প্রাথমিক চিকিৎসা করে থাকেন। আবার একই সূঁই দিয়ে একাধিক রোগীকে সেঁলাই করার অভিযোগও রয়েছে। এতে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে রোগীদের। বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকিও। অবশ্য সব অভিযোগের বিষয়টি শিকারও করেছে হাসপাতাল স্টাফরা।

তাদের দাবি- হাসপাতালে স্টাফ সংকট ও পর্যাপ্ত পরিমাণ চিকিৎসা সরঞ্জাম বরাদ্দ না থাকার কারণে এমনটা হচ্ছে। অথচ প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ রোগীরা না জেনেই গার্ড ও ঝাড়ুদার দিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন রোগীরা।

এ ব্যাপারে চিকিৎসা নিতে আসা বানিয়াচং উপজেলার আড়িয়ামুকুর গ্রামের রাজন দাস বলেন- ‘আমরাতো আর চিনি না যে কে ডাক্তার আর কে ঝাড়ুদার। যার কারণে আমরা তাদের দ্বারাই চিকিৎসা নিচ্ছি।’

সদর উপজেলার পইল গ্রামের আবুল কালাম বলেন- ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোন পরিচয়পত্র না থাকার কারণে কে পরিচ্ছন্ন কর্মী আর কে চিকিৎসক তা বুঝতে পারি না। আবার অনেক সময় বুঝতে পারলে আমরা প্রতিবাদ করি। কিন্তু এতেও কোন কর্ণপাত করে না কর্তৃপক্ষ।’

তিনি বলেন- একই সূই দিয়ে একাধিক রোগীকে সেঁলাই দেয়া হয়। যা খুবই ঝুঁকিপুর্ণ। অথচ এভাবেই স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে দিনের পর দিন সাধারণ রোগীরা হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন।’

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্বাবধায়ক রতিন্দ্র চন্দ্র দেব বলেন- ‘ইমার্জেন্সি বিভাগে দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও ব্রাদার্স আছেন। সুতরাং ঝাড়ুদার দিয়ে চিকিৎসা দেয়ার কথা না।’ এছাড়া একই সূই দিয়ে সেলাই করলে কোন সমস্যা হয়না বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন- ‘একজন রোগীকে সেঁলাই দেয়ার পর যদি সেটি ভালোভাবে পরিস্কার করা হয় তাহলে কোন সমস্যা হয় না।’