কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে সড়কে গাড়িচাপায় প্রাণ হারালেন হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের চিকিৎসক দীপঙ্কর পোদ্দার। তিনি সেখানে সহকারী সার্জন হিসেবে কাজ করতেন।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কলিমনগর এলাকায় পিকআপ ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের ত্রিমুখী সংঘর্ষে প্রাণ হারান তিনি।

দীপঙ্কর চলতি বছরের মে মাসে ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের জরুরি নিয়োগের মাধ্যমে সিলেটের হবিগঞ্জে সহকারী সার্জন নিযুক্ত হন। তার বাসা সিলেটে।

সদর হাসপাতালে বৃহস্পতিবার রাতের ডিউটি ছিল দীপঙ্করের। কাজ শেষে তিনি সিলেটের বাসায় ফিরছিলেন।

হবিগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন মোখলেছুর রহমান উজ্জ্বল জানান, অটোরিকশা করে দীপঙ্কর যাচ্ছিলেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে তারা বিশেষ কিছু জানেন না।

দুর্ঘটনার পর দীপঙ্করের মরদেহ নেয়া হয় তার কর্মস্থলেই। সেখানেই হয়েছে সুরতহাল প্রতিবেদন।

এই চিকিৎসক সিলেটের জালালাবাদ রাগিব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস করেছেন। তার স্ত্রী প্রীয়ন্তি পূর্ণাও একজন চিকিৎসক। তিনি সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে এমডি কোর্সে ভর্তি হয়েছেন।

এই দম্পতির আট মাসের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।

শিশু সন্তানকে কোলে নেয়া দীপঙ্করের একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শোক জানাচ্ছেন সহপাঠী ও সহকর্মীরা। এক জন সহপাঠী জানান, দীপঙ্করের শিশু রোগ নিয়ে উচ্চশিক্ষা নেয়ার পরিকল্পনা ছিল। ২০২৩ সালে তিনি এফসিপিএস শেষ করতে চেয়েছিলেন।

এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মোট দুই জন। চিকিৎসক দীপঙ্কর ছাড়া অন্য জন হলেন জুলহাস উদ্দিন। তিনি পেশায় এক জন শিক্ষক।

দীপঙ্করের বাড়ি হবিগঞ্জেরই মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন গ্রামে। আর জুলহাসের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার শ্রীপান গ্রামে।

জুলহাস তার ছেলের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। তার ছেলে আবু হানিফা বানিয়াচং থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত।

এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিন জন। তাদের অবস্থাও গুরুতর। তাদের দীপঙ্করের হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়েছে।

শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় চন্দ্র দেব জানান, শায়েস্তাগঞ্জ থেকে অটোরিকশা ও ইজিবাইক হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে পিকআপের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই দুই জনের মৃত্যু হয়।

যানবাহন তিনটি জব্দ করে থানায় নেয়া হয়েছে। তবে পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি বলেও জানান ওসি অজয়।