গ্রেপ্তার অভিযানের মুখে সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় ব্যর্থ হওয়ার পর কওমিমাদ্রাসা কেন্দ্রিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

সংগঠনের ২৫ জনের বেশি নেতা গ্রেপ্তার এবং সরকার পতনের ষড়যন্ত্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগের মধ্যে আচমকা এ সিদ্ধান্ত এলো।

রোববার রাতে ফেসবুক পেজে ১ মিনিট ২০ সেকেন্ডের এক ভিডিওবার্তায় এই ঘোষণা দেন জুনায়েদ বাবুনগরী, যিনি গত নভেম্বরের সম্মেলনের পর সংগঠনের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

সংক্ষিপ্ত বার্তায় তিনি বলেন, ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতির বিবেচনায় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় অরাজনৈতিক সংগঠন, দ্বীনি সংগঠন ইমান আক্বিদার সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটিকে বিলুপ্ত… কেন্দ্রীয় কমিটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের পরামর্শক্রমে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।

‘ইনশাআল্লাহ আগামীতে আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে আবার হেফাজতে ইসলামের কার্যক্রম শুরু হবে।

বাবুনগরী কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন, তার কোনো কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি। কবে গত কয়েক দিনে হেফাজতের বেশ কয়েকজন নেতা সংগঠন থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। আরও বহু নেতা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন।

একটি অনলাইনভিত্তিক গণমাধ্যমে তারা বলেছেন, হেফাজত তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে বলেই মনে করছেন। এ কারণে এই সংগঠনে থাকার কোনো দরকার আছে বলে মনে করছেন না তারা।

বিষয়টি নিয়ে জানতে হেফাজতের নায়েবে আমির আবদুর রব ইউসুফী ফোন ধরেননি।

সংগঠনের প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়েজীর ফোন বন্ধ।

আমির বাবুনগরী ফোন ব্যবহার করেন না। তার ব্যক্তিগত সহকারী সহকারী ইনামুল হাসান ফারুকী বলেন, কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। ভিডিওতে এর কারণ বলা হয়েছে।

যদিও বাবুনগরী আসলে কোনো কারণ ব্যাখ্যা করেননি।

কারণ স্পষ্ট করেননি হেফাজত মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম জেহাদীও। কমিটি বিলুপ্তের কারণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, উনি (হেফাজতের আমির) তো কারণ বলেই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন। আবার নতুন কোন কারণ বলতে পারব না।

কিন্তু তিনি তো বলেছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে- এমন মন্তব্যের জবাবে হেফাজতের মহাসচিব বলেন, সেটাই সেটাই।

কী পরিস্থিতি আপনি যদি একটু খুলে বলতেন- এমন কথা বলণে নূরুল ইসলাম জিহাদী বলেন, আমি খুলে বলতে পারব না।

এটুকু বলেই তিনি ফোন কেটে দেন।