বাংলাদেশের সব অর্জন সংগ্রামের মাধ্যমে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, ‘সংগ্রাম করেই সব অর্জন করতে হয়েছে। কেউ এমনি কিছু করেনি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো জাতিকে ধ্বংস করত হলে প্রথমে ভাষা-সংস্কৃতিতে আঘাত করতে হয়। পাকিস্তানিরা সেটাই করেছিল।’

এ সময় ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকাও তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।

এ বছর জাতীয় ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদক পেলেন ২১ বিশিষ্ট নাগরিক। শনিবার সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পদক তুলে দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হোসেন।

অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত থাকতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে পারলাম না। করোনার জন্য সকলেরই এ বন্দি অবস্থা।’

এ বছর ভাষা আন্দোলনে তিন জন, মুক্তিযুদ্ধ ক্যাটাগরিতে তিন জন, শিল্পকলায় সাত জন, ভাষা ও সাহিত্যে তিন জন এবং সাংবাদিকতা, শিক্ষা, গবেষণা, সমাজসেবা ও অর্থনীতিতে এক জন করে একুশে পদক পেয়েছেন।

একুশে পদক রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা। ভাষা আন্দোলনে শহিদদের স্মরণে ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতি বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে সরকার।

ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য এবারের একুশে পদক (মরণোত্তর) পান মোতাহার হোসেন তালুকদার (মোতাহার মাস্টার), শামছুল হক ও অ্যাডভোকেট আফসার উদ্দীন আহমেদ।

শিল্পকলায় অবদানের জন্য পদক পান পাপিয়া সারোয়ার (সংগীত), রাইসুল ইসলাম আসাদ ও সালমা বেগম সুজাতা (অভিনয়), আহমেদ ইকবাল হায়দার (নাটক), সৈয়দ সালাউদ্দীন জাকি (চলচ্চিত্র), ড. ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় (আবৃত্তি) এবং পাভেল রহমান (আলোকচিত্র)।

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য এবার একুশে পদক পান গোলাম হাসনায়েন, ফজলুর রহমান খান ফারুক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ ইসাবেলা (মরণোত্তর)।

সাংবাদিকতায় একুশে পদক দেয়া হয়েছে অজয় দাশগুপ্তকে। গবেষণায় অবদানের জন্য পদক পেয়েছেন ড. সমীর কুমার সাহা।

এ ছাড়া শিক্ষায় মাহফুজা খানম, অর্থনীতিতে ড. মির্জা আব্দুল জলিল ও সমাজসেবায় অধ্যাপক কাজী কামরুজ্জামান একুশে পদক পেয়েছেন।

এ বছর ভাষা ও সাহিত্যে একুশে পদক দেয়া হয়েছে তিন জনকে। তারা হলেন কবি কাজী রোজী, বুলবুল চৌধুরী ও গোলাম মুরশিদ।