ভালোবেসে মানুষ কত কিছুই না করে। কেউ প্রাণ বিসর্জন দেয়, কেউ পাহাড় কেটে রাস্তা বানিয়ে ফেলে, কেউ অপেক্ষা করে বছরের পর বছর। ইতিহাসে এমন উদাহরণ রয়েছে ভুরিভুরি। কিন্তু একটা মানুষ ১০ বছরে ২৫বার স্বামী-সন্তান ফেলে পরপুরুষের সঙ্গে পালিয়েছে, তাকে সাদরে ঘরে তুলে নিতে অপেক্ষা- এটি হয়তো নতুনই বটে!

সম্প্রতি ভারতের আসামে এমন নজির গড়েছেন এক ব্যক্তি। এটি তার একতরফা প্রেম, নাকি স্ত্রীর প্রতি অন্ধবিশ্বাস- তা নিয়ে আলোচনা চলছে ঢের।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, বিয়ের পর গত ১০ বছরে বেশ কয়েকবার পরপুরুষের সঙ্গে পালিয়েছেন স্ত্রী। আর ফিরে এলে তাকে বারবার মেনে নিয়েছেন স্বামী। আর তা গ্রহণ করেছেন শ্বশুরবাড়ির বাকি লোকজনও। ঘটনাটি ঘটেছে আসামের ধিঙ্গ লাহকর গ্রামে।

স্বামী পেশায় গাড়িচালক। তাদের সংসারে রয়েছে তিন সন্তান। এক কন্যার বয়স ছয় বছর, আর দুই পুত্র সন্তান যথাক্রমে তিন বছর ও তিন মাসের।

প্রতিবেশীরা জানান, ওই নারীর বিয়ের পরও গ্রামের বহু পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক হয়েছে। মাঝেমধ্যেই তাদের সঙ্গে পালিয়ে যান তিনি। কখনো এক সপ্তাহ, কখনো এক মাসের ওপর নিরুদ্দেশ থাকেন সেই স্ত্রী। এরপর ফিরে আসেন শ্বশুরবাড়িতে।

স্বামী জানিয়েছেন, প্রতিবারই ফিরে এসে ভুল স্বীকার করেন স্ত্রী। প্রতিজ্ঞা করেন, আর কখনো ঘর ছেড়ে যাবেন না। কিন্তু একবারও কথা রাখতে পারেন না তিনি। কখনো বলেন, প্রতিবেশীর বাড়ি যাচ্ছেন, কখনো অসুস্থ আত্মীয়কে দেখার নাম করে পালিয়ে যান স্ত্রী। তবে এর জন্য তাকে কখনোই কিছু বলেননি স্বামী।

গত সপ্তাহে ফের ঘর-সংসার ছেড়ে পালিয়েছেন সেই নারী। স্বামীর কথায়, কাজ সেরে বাড়ি ফিরে দেখি সে নেই। তিন মাসের সন্তানকে পাশের বাড়িতে রেখে চলে গেছে। বলেছে, ছাগলের জন্য খাবার আনতে যাচ্ছে।

এবার পালানোর সময় ২২ হাজার রুপি সঙ্গে নিয়ে গেছেন ওই নারী। তবে কার সঙ্গে পালিয়েছেন, কবে ফিরবেন- তা কেউই জানেন নারী। এ নিয়ে ২৫বার বাড়ি ছাড়লেন তিনি।

তাহলে এমন স্ত্রীকে বারবার কেন গ্রহণ করছেন স্বামী? তার জবাব, সন্তানদের মা দরকার। এ জন্যই বারবার পালালেও ফিরে আসার পর বাড়িতে ঠাঁই দেওয়া হয় তাকে।