করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে চলমান ‘কঠোর’ লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

বুধবার সরকারের এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এতে বলা হয়েছে, করোনাজনিত রোগ সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে ৫ মে মধ্যরাত পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপের সময় বর্ধিত করা হলো।

নতুন করে লকডাউনে আগের ১৩টি নির্দেশনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও ছয়টি বিধিনিষেধ।

এগুলো হলো:

১. স্থল, নৌ ও বিমানযোগে যেকোনো ব্যক্তি ভারত হতে বাংলাদেশে প্রবেশের (পণ্য পরিবহন ব্যতীত) ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে শুধুমাত্র ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ বাংলাদেশিরা ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের অনুমতি বা অনাপত্তি ছাড়পত্র গ্রহণ সাপেক্ষে বিশেষ বিবেচনায় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবেন।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রবেশকারীদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন সংক্রান্ত বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রণীত বিধিনিষেধ কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, সুরক্ষা সেবা বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

২. দোকানপাট ও শপিংমলগুলোর সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন সাপেক্ষে খোলা রাখা যাবে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শ্রম মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠন সহ সংশ্লিষ্ট বাজার বা সংস্থার ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৩. আসন্ন ঈদুল ফিতরের নামাজের বিষয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

৪. মধ্যপ্রাচ্য, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও চীন থেকে আগত যাত্রীদের ভ্যাকসিন গ্রহণের সনদসহ নন কোভিড-১৯ সনদধারী যাত্রীরা নিজ বাড়িতে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। সেক্ষেত্রে তাদেরকে সংশ্লিষ্ট থানাকে আগমন ও কোয়ারেন্টিনের বিষয়ে অবহিত করতে হবে।

৫. উল্লেখিত দেশ থেকে আগত শুধুমাত্র নন কোভিড-১৯ সনদধারীরা সরকার নির্ধারিত কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থায় থাকবেন। তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে চিকিৎসকরা তাদের পরীক্ষা করে সম্মতি প্রদান করলে তারা স্ব স্ব বাড়িতে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। তবে সেক্ষেত্রে তাদের স্ব-স্ব থানাকে অবহিত করতে হবে।

৬. অন্যান্য দেশ থেকে আগত যাত্রীরা সরকার নির্ধারিত হোটেলে নিয়ে ব্যয়ে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকবেন।

লকডাউন আরও এক দফা বাড়ছে বলে সোমবারই জানিয়ে দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমরা এটা আরও এক সপ্তাহের জন্য কন্টিনিউ করতে যাচ্ছি। এটা হলো আমাদের ডিসিশান। আমাদের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ যে, আরও এক সপ্তাহ এটাকে কন্টিনিউ করতে হবে। অফিস-আদালত বন্ধ থাকবে। গণপরিবহন বন্ধ থাকবে।’

আর এক সপ্তাহ বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের অবস্থাটা এত খারাপ করেছে যে, এটা নিয়ে আমরা খুব ভয় পাচ্ছি। এটা যদি বাংলাদেশের চলে আসে…ইতোমধ্যে যশোরে দুজন পাওয়া গেছে। এ কারণে এটা আমাদের সাবধানতা, আমাদের ডিসিশান।’

শপিং মল ও দোকানপাট সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।’

গণপরিবহন বন্ধ থাকলে শপিংমলে মানুষ কীভাবে যাবে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পায়ে হেঁটে। কারণ শপিং মল সবই কাছাকাছি আছে। দোকানপাটগুলো খোলা থাকবে; কারণ তারা কষ্ট করছিল। তবে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

‘এ সিদ্ধান্ত পুরোপুরি জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক্রমে করা হয়েছে। আমাদের আরও একটা সপ্তাহ এটি কন্টিনিউ করতে হবে।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল সাত দিনের লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। শুরুতে গণপরিবহন বন্ধ রাখা হলেও পরে মহানগরগুলোতে চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়।

শেষ দিকে এসে সময় বেঁধে দিয়ে দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখারও সিদ্ধান্ত আসে। পরে সরকার আরও দুই দিনের জন্য বিধিনিষেধের সময় বাড়ায়।

কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সংক্রমণ প্রতিরোধে ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল কঠোর বিধিনিষেধসহ লকডাউন আরোপ করা হয়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে সারা দেশে সর্বাত্মক লকডাউন আরও এক সপ্তাহ অর্থাৎ ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ায় সরকার।

কঠোর লকডাউন নিশ্চিতে আরোপ করা হয় ১৩ দফা বিধিনিষেধ। এর মধ্যে শপিংমল, দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত থাকলেও মানুষের জীবন-জীবিকা বিবেচনায় লকডাউন শিথিলের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

চলমান লকডাউনের মধ্যে ২৫ এপ্রিল স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট ও শপিংমল আরও বেশি সময় খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।