জো রিগনের বয়স এখন ৮৩ বছর। এর মধ্যে ৬৮ বছর ছিলেন জেলে। যুক্তরাষ্ট্রের এ ব্যক্তি কিশোর অপরাধী হিসেবে কারাগারে যান ১৫ বছর বয়সে।

সম্প্রতি মুক্তি পাওয়ার পর রিগনকে বিবেচনা করা হচ্ছে দেশটির সবচেয়ে বয়স্ক ও দীর্ঘদিন জেলে থাকা কিশোর অপরাধী।

সিএনএন জানায়, ১১ ফেব্রুয়ারি পেনসিলভানিয়ার জেলের বাইরে পা রেখে মুক্ত জীবনের স্বাদ পান জো রিগন।

১৯৫৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফিলাডেলফিয়ার কারাগারে বন্দী হন রিগন। আরও চার কিশোরের সঙ্গে মিলে ডাকাতি ও হামলার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ছয় ব্যক্তি আহত ও দুজন নিহত হয়।

মুক্তি পাওয়ার পর সিএনএনকে জানান, অপরাধের পর রাস্তায় ধরা পড়েন তিনি।

ওই সময় রিগনের বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ আনা হয়। তিনি ছুরিকাঘাতের কথা স্বীকারও করেন।

রিগনের আইনজীবী ব্র্যাডলি ব্রিজ বলছিলেন, যে শিশুটি ১৯৫৩ সালে অপরাধ করেছিল সে আর নেই। ২০২১ সালে জেল থেকে বের হয়েছে ৮৩ বছর বয়সী একজন মানুষ। যে বড় হয়েছে, বদলে গেছে। এখন আর হুমকি নয়। সমাজের যে ক্ষতি তিনি করেছেন তা শোধ হয়েছে। এখন জীবনের শেষ বছরগুলো স্বাধীনভাবে কাটাবেন।

রিগন বলেন, আমি আর শিশুটি নই। শুধু বড় হয়েছি এমন নয়। আমি একজন বৃদ্ধ মানুষ আর প্রতিদিন বৃদ্ধ হচ্ছি।

১৯৭০ এর দশকে রিগন ও তার সহযোগীরা পেনসিলভানিয়া গভর্নরের অনুকম্পা লাভ করেন। তবে দুজন প্যারোলের তা গ্রহণ করলেও রিগন তা প্রত্যাখ্যান করেন। ২০১৭ সালের যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট আরেকটি সুযোগ দিলেও গ্রহণ করেননি। এর আগের বছর এক মামলার ভিত্তিতে কিশোর অপরাধীদের আজীবন কারাদণ্ডকে বেআইনি গণ্য করা হয়। সে হিসেবে রিগন কয়েক দশক বেশি কারাগারে কাটিয়েছেন। কিন্তু তিনি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। কারণ, কয়েক দশক বন্দী থাকার পরও এ প্যারোল তাকে প্রত্যাশিত স্বাধীনতা দেবে না। এ সময় তাকে নজরদারিতেই থাকতে হবে।

আইনজীবী ব্রিজ ১৫ বছর ধরে রিগনের জন্য কাজ করছিলেন। কিশোর অপরাধের শাস্তি হিসেবে আজীবন সাজা অসাংবিধানিক ঘোষিত হওয়ায় ২০১৮ সালের নভেম্বরে ফেডারেল কোর্টে জয়ী হন তিনি। এ হিসেবে এখন নিজের মতো মুক্ত জীবন বেছে নিতে পারেন রিগন। ইতিমধ্যে তার সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন জেলের পুরোনো সঙ্গী জন পেস। তিনি ফিলাডেলফিয়া ভিত্তিক কিশোর সংশোধনীর একটি প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত। তারাই রিগনকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করবে।

রিগন চান, মানুষ তাকে যেভাবে সাহায্য করেছে সেভাবেই তাদের কাজে আসতে। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা ভিন্ন প্রজন্মের মাঝে বিলিয়ে দিতে চান।